খুলনায় সন্দেহভাজন করোনা রোগীর মৃত্যু

আপডেট: 09:47:14 26/03/2020



img

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাহিদুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন; যাকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই রোগীর মৃত্যুর পর তার সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, সেবিকা ও কর্মচারী মিলে ১৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছেন, মোস্তাহিদুর ঢাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক ব্যক্তির পাশের বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঢাকার ওই রোগী মারা যাওয়ার পর মোস্তাহিদুরকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়। কিন্তু তিনি খুলনায় হাসপাতালে ভর্তির সময় এই তথ্য গোপন করেন।
মোস্তাহিদুর বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি খুলনা মহানগরীর হেলাতলা এলাকার মৃত সাঈদুর রহমানের ছেলে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, মোস্তাহিদুর রহমান থাইরয়েড সার্জারির জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ঢাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া একজন। এরপর ওই হাসপাতাল থেকে সব রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে নিজ নিজ বাসায় সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু মোস্তাহিদুর রহমান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে বুধবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে ভর্তির সময় এসব তথ্য গোপন করেন।
ডা. মঞ্জুর আরো জানান, থাইরয়েড সার্জারিতে ইনফেকশন হওয়ার কারণে এখানে আসেন তিনি। তাই তাকে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-২-এ ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন এসব তথ্য প্রকাশ পায়। এরপর ওই রোগীকে ফাঁকা ওয়ার্ডের এক কোণে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। তার লাশ হাসপাতালেই রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে মৃত ব্যক্তির চিকিৎসাসেবায় থাকা ১৬ জনকে এ ঘটনার পরই কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পেছনে থাকা ডরমেটরিতে তাদের পৃথক পৃথক রুমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই ডাক্তার, দশ নার্স ও দুই কর্মচারী রয়েছেন।’
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট ইনচার্জ ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, ওই ব্যক্তি তথ্য গোপন না করলে তাকে করোনা ইউনিটেই নেওয়া হতো। তথ্য গোপন করার কারণে তাকে সার্জারিতে নেওয়া হয়।
এদিকে, মোস্তাহিদুরের মৃত্যুর পর আতঙ্কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ত্যাগ করতে শুরু করেছেন অন্য রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন