খুলনায় সরকারি গোডাউন থেকে চাল পাচার

আপডেট: 03:33:57 02/11/2016



img
img
img

জিয়াউস সাদাত, খুলনা : নগরীর বৈকালীর সরকারি খাদ্য গুদাম (সিএসডি) থেকে চাল পাচার করে বহিরাগতদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। সিএসডি গোডাউনের অসাধু কর্মকর্তা এবং গুদাম হ্যান্ডলিং শ্রমিক নেতাদের যোগসাজসে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা গুদামে খাওয়ার অনুপযোগী, নিম্নমানের এবং পচা চাল রেখে ভালো মানের চাল উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছে।
এদিকে, দুই দিনের অভিযানে র‌্যাব ১৩ হাজার ৭৫০ কেজি চালসহ একটি ট্রাক আটক করে। এ ঘটনায় একজন শ্রমিকনেতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তিনটি গোডাউন সিলগালা করে দেয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
র‌্যাব-৬ সূত্র জানায়, নগরীর বৈকালীতে অবস্থিত সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে পাচারের গোপন খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে নগরীর শিরোমণি পুলিশ ক্যাম্প এলাকা থেকে এক ট্রাক ওএমএস-এর চাল জব্দ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দৌলতপুর চালপট্টি থেকে খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সূত্রের তথ্য ধরেই র‌্যাব রাতেই সিএসডি গোডাউনে প্রথম দফা অভিযান চালায়। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আবার সিএসডি গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে র‌্যাব দেখতে পায়, ১৮ এবং ৩২ নম্বর গোডাউনে থাকা চালের বেশির ভাগই খাওয়ার অনুপযোগী, নিম্নমানের এবং পচা। এ সময় ৯৯ দশমিক ৮৮০ মেট্রিক টন চালসহ ১৮ নম্বর গুদাম এবং ৬৬ দশমিক ৬২০ টন চালসহ ৩২ নম্বর গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়। এছাড়া মঙ্গলবার পাচার হওয়া চাল গোডাউনের ২৬ নম্বর গুদাম থেকে বের হওয়ায় সেটিও সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ সময় চাল পাচারে জড়িত অভিযোগে সিএসডি খাদ্য গুদাম হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আসগর সরদারকেও গ্রেফতার করা হয়।
সিএসডি গুদামের সূত্র জানায়, অভিযানের খবর পেয়ে ২৬ নম্বর গুদাম ইনচার্জ মো. ইলিয়াস হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিলগালা করা ১৮ নম্বর গুদামে জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ৩২ নম্বর গুদাম ইনচার্জ হিসেবে মহসিন আকন দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, সিএসডি গোডাউনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এবং গুদাম হ্যান্ডলিং শ্রমিকনেতাদের যোগসাজসে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে চাল পাচার করে আসছে। তারা গুদামে খাওয়ার অনুপযোগী, নিম্নমানের এবং পচা চাল রেখে ভালো মানের চাল উচ্চমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করছে। এভাবে সরকারি গুদাম থেকে চাল পাচার হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ ঘটনায় খালিশপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি জানান, সরকারি গুদাম হওয়ায় বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন আকারে পেশ করা হবে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তক্রমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত গুদাম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে সিএসডি গোডাউনের ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান খান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি।’
এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ম্যানেজার মাহবুবুর।

আরও পড়ুন