গৃহবধূর লাশ, হত্যা বলে অভিযোগ

আপডেট: 09:18:55 24/09/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামে শিমলা বেগম (২১) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। শিমলা বেগম ওই গ্রামের সুমনের স্ত্রী এবং সদর উপজেলার হাশিমপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর মেয়ে।
গৃহবধূ শিমলার মা তারা বেগম জানান, তার মেয়ে শিমলাকে ১৯ মাস আগে সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের সুমনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর শিমলার স্বামী সুমন যৌতুক হিসেবে নগদ দুই লাখ টাকা ও ঘর সাজানোর জন্য টাকা দাবি করে। শিমলা যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারপিট ও নির্যাতন শুরু করে। সুমন যৌতুকের টাকা জন্য নির্যাতন করায় ইতিপূর্বে তার প্রথম স্ত্রী তার ঘর থেকে চলে যান। সুমন বিষয়টি গোপন করে শিমলাকে বিয়ে করে। গত রোববার শিমলার বাবার পরিবার ঘর সাজানোর জন্য একটি বাক্স সুমনের বাড়িতে পাঠায়। বাক্স দেখে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে শিমলাকে বেধড়ক মারপিট করে। নির্যাতনের মুখে শিমলা সুমনের ঘর থেকে বাপের বাড়ির উদ্দেশে বের হন। কিছুদূর আসার পর যৌতুকলোভী সুমন স্ত্রী শিমলাকে ধরে নিয়ে বাড়িতে যায়। বাড়িতে নিয়ে শিমলাকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে শিমলা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে সুমন শিমলার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। পরে সুমন স্ত্রী ‘শিমলা আত্মহত্যা করেছে’ বলে অপ্রচার চালায়। সুমনের কথা শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঝুলন্ত শিমলার লাশ নীচে নামান।
সোমবার সকাল থেকে লাশ বাড়িতে থাকায় খবর পেয়ে চাঁচড়া ফাঁড়ির পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে শিমলার লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ব্যাপারে চাঁচড়া ফাঁড়ির এসআই মফিজুর রহমান জানান, গৃহবধূ শিমলা বেগম আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পেয়ে তিনি ওই এলাকায় গিয়ে শিমলার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে কী কারণে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতে পারেননি।

আরও পড়ুন