গোপালগঞ্জের দুর্বৃত্তরা লুটছে লোহাগড়ার পুকুরের মাছ

আপডেট: 03:30:53 22/11/2020



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চর সুচাইল আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর থেকে অব্যাহতভাবে মাছ লুট করছে একদল দুর্বৃত্ত। বাধা দিলে চক্রের সদস্যরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিবাসীদের মারপিটসহ হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।
এই অবস্থায় পুকুরের মাছ ও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে তিন শতাধিক পরিবার।
ইতনা ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের অধীন চর সুচাইল গ্রামে ২০১৫ সালে মধুমতি নদীর পূর্ব পাড়ের চরে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মিত হয়। ২০১৭ সালে এই প্রকল্প এলাকায় গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণের সময় প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারীদের ব্যবহারের জন্য দুই একর জায়গার ওপর একটি পুকুর খনন করা হয়। বর্ষাকালে নদী থেকে ওই পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঢোকে। শুষ্ক মৌসুমে পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে মাছ শিকার করে তা প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারীরা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন।
কিন্তু অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে পাশের গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার তারাইল-পাংখারচর গ্রামের পটু ফকিরের নেতৃত্বে রইচ ফকির, রমজেদ সরদার, বশির মুন্সি, আবু শেখসহ ১৫-২০ জনের একদল দুর্বৃত্ত জোর করে ওই পুকুর থেকে মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের হুমকি-ধামকিসহ নানা হয়রানি করছে।
এই ব্যাপারে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী অনেকের সঙ্গে কথা হয়। তাদের ভাষ্য, দুর্বৃত্তচক্রের মাছ শিকারের বিষয়ে নড়াইল-২ আসনের  সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, ইউএনও, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ নানা কর্তৃপক্ষকে মাছ শিকারের বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ করা হলেও পরিস্থিতি বদলায়নি।
গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাখি ব্যানার্জির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজন মাঝিকে মাছ শিকারের জালসহ আটক করেন। তবে আদালত তাকে ছেড়ে দেন। ছেড়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে এসি ল্যান্ড রাখি ব্যানার্জি জানান, তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারাইল-পাংখারচর গ্রামের পটু ফকির ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি করেন। তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বড় ভাই পুলিশ বাহিনীর একজন পদস্থ কর্মকর্তা। সেই কারণে তার দৌরাত্ম্য অনেক।

আরও পড়ুন