গ্রামপুলিশের গায়ে গরম পানির কেটলি নিক্ষেপ

আপডেট: 10:17:07 28/06/2020



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে গরম পানি ছুড়ে ইয়াসিন কবির (৩২) নামে এক গ্রামপুলিশের পিঠ ঝলসে দিয়েছে চা-বিক্রেতা। এই ঘটনায় রোববার (২৮ জুন) বিকেলে ইউএনও অফিসে অভিযোগ করেছেন ইয়াসিন।
অভিযোগ করা হচ্ছে, উপজেলার চাঁদপুর-মাঝিয়ালি নতুন বাজারের চা-বিক্রেতা তাজউদ্দীনের ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করায়’ তিনি কেটলির গরম পানি ছুড়ে ইয়াসিনের পিঠ ঝলসে দেন।
ইয়াসিন ও অভিযুক্ত তাজউদ্দীনের বাড়ি মাঝিয়ালি গ্রামে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। ইয়াসিন খেদাপাড়া ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামপুলিশ হিসেবে কর্মরত।
ইয়াসিনের অভিযোগ, চাঁদপুর-মাঝিয়ালি নতুন বাজারের অনেক দোকানদার তাজউদ্দীনের কাছে টাকা পাবেন। তাজউদ্দীন তাদের টাকা দিচ্ছেন না। বিষয়টি পাওনাদাররা ইয়াসিনকে জানান।
শনিবার (২৭ জুন) রাত আটটার দিকে ইয়াসিন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তাজউদ্দীনের দোকানে যান। তিনি পাওনাদারদের দেনা মেটাতে তাজউদ্দীনকে চাপ দেন। তখন তাজউদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াসিনের গায়ে গরম পানির কেটলি ছুড়ে মারেন। এতে ইয়াসিনের পিঠ ঝলসে যায়। ওই রাতেই স্থানীয়রা ইয়াসিনকে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে তাজউদ্দীনের মোবাইল ফোনে কল করে তাকে পাওয়া যায়নি।
তার স্ত্রী জোসনা বেগম ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘বাজারে কমিটি গঠন নিয়ে ইয়াসিনের সাথে আমার স্বামীর কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইয়াসিন আমার স্বামীর হাতে রড দিয়ে আঘাত করে এবং একটি কেটলি ছুড়ে মারে। তখন আমার স্বামী তার হাতে থাকা কেটলি ইয়াসিনের গায়ে ছুড়ে মারে।’
চাঁদপুর-মাঝিয়ালি বাজার কমিটির সভাপতি নাসিরুদ্দিন বাবু বলেন, ‘ইয়াসিন ও তাজউদ্দীন আপন চাচাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয় না। বাজারের নতুন কমিটির মিটিং নিয়ে শনিবার রাতে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। তখন তাজউদ্দীন গরম পানির কেটলি ইয়াসিনের গায়ে ছুড়ে মারে।’
বাবু আরো বলেন, ‘গ্রামপুলিশের গায়ে গরম পানি ছুড়ে তাজউদ্দীন অন্যায় করেছে। আমরা তার দোকান খোলা বন্ধ করে দিয়েছি। সে ইয়াসিনের সাথে বিষয়টি মিট করে না নেওয়া পর্যন্ত তাকে দোকান খুলতে দেওয়া হবে না।’
এদিকে গ্রামপুলিশের গায়ে গরম পানি ছুড়ে ওই রাতেই উল্টো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে খেদাপাড়া ক্যাম্পে যান তাজউদ্দীন। কিন্তু তাজউদ্দীনের উদ্দেশ্য আঁচ করতে পেরে অভিযোগ নেননি ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খাইরুল আলম।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রামপুলিশ ইয়াসিনের বিরুদ্ধে কিছু লোক অভিযোগ করতে শনিবার রাতে ক্যাম্পে এসেছিল। তখন আমি ইয়াসিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলি। ইয়াসিন ওই সময় হাসপাতালে ছিল। সে আমাকে সব খুলে বলেছে। আমি ওদের অভিযোগ নিইনি।’
মণিরামপুরে আজই যোগ দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, ‘গ্রামপুলিশ ইয়াসিন অফিসে এসে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন