ঘর পেলেন পিআইও’র খালুশ্বশুর, একাধিক অনিয়ম

আপডেট: 03:52:47 03/11/2020



img
img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়ায় গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) খালুশ্বশুরও পেয়েছেন সরকারি প্রকল্পের গৃহহীনদের ঘর। অথচ ওই ব্যক্তির রয়েছে তিনটি ঘর।
সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী গৃহহীনরাই ঘর পাবেন। অথচ উপকারভোগী বাছাই ও ঘর নির্মাণে করা হয়েছে নানা অনিয়ম।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন লোহাগড়ায় গেল ৮ ডিসেম্বর ৪৩টি প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রতিটি দুর্যোগ সহনীয় এ ঘর নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ খাতে বরাদ্দকৃত নগদ টাকায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। ওই প্রকল্পের ১৯ নম্বর ক্রমিকের ঘরের মালিক লোহাগড়া পৌর শহরের ছাতড়া গ্রামের মো. আমির মোল্যার ছেলে দুলাল মোল্যা। দুলাল মোল্যা সম্পর্কে পিআইও এসএমএ করিমের খালুশ্বশুর। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পৌর শহরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে না ।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, লোহাগড়া পৌরসভার এক নম্বর ছাতড়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দুলাল মোল্যা। দুলালের স্ত্রী রহিমা বেগম (৫০)। রহিমার ভাগ্নিজামাই পিআইও করিম। সেই হিসেবে মো. দুলাল মোল্যা পিআইও’র খালুশ্বশুর।
রহিমা বেগম স্বীকার করেছেন পিআইও এসএমএ করিম তার আত্মীয়।
তিনি বলেন, ‘জামাই নিজে আমাকে সরকারি টাকার ঘর দেছে। কিন্তু ঘর নির্মাণে ঠিকাদার নানা অনিয়ম করেছে।’
তিনি জানান, জয়পুর ইউনিয়নের মেম্বর বাচ্চুকে দিয়ে পিআইও ঘরটি নির্মাণ কাজ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ছে। ওয়াশরুমের টিনের চালের বেড়া ছোট, তাই পানি ঢোকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মো. দুলাল মোল্যা ও রহিমা বেগমের নিজের ১৮ শতক জমির ওপর রয়েছে দেওয়াল ও মেঝে পাকা দুটিসহ মোট তিনটি ঘর। রয়েছে তিনটি সোলার প্যানেল।
জয়পুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মো. বাচ্চু শেখ বলেন, ‘রহিমা বেগম পিআইও’র আত্মীয়। পিআইও করিমের অনুরোধে ঘরের নির্মাণ কাজ করেছি। আমি রঙ ও টয়লেটের কুয়া বানানো বাদে সব কাজই করেছি। আমাকে পিআইও দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। বাকি প্রায় ৭৫ হাজার কী করেছেন জানি না। আমি আরো টাকা পাবো।’
পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দাস ভুন্ডুল বলেন, ‘কাগজ কলমে ওই ঘর নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি আমি। অথচ ঘর নির্মাণ করার পর আমি বিষয়টি জেনেছি। পিআইও সাহেবের আত্মীয় বাড়িতে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে।’
লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিকদার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের নামে বরাদ্দ দিয়ে পৌরএলাকায় ঘর কীভাবে হলো খোঁজ নিচ্ছি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোসলিনা পারভীন বলেন, ‘আমিতো ওই সময় লোহাগড়ায় দায়িত্বে ছিলাম না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবো।’
এ ব্যাপারে পিআইও এসএমএ করিমের বক্তব্য জানতে তার নাম্বারে রিং করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন