চাষিদের স্বপ্ন দোল খাচ্ছে আমের মুকুলে

আপডেট: 11:14:11 10/03/2020



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুরে আমগাছগুলোয় থোকায় থোকায় আমের মুকুল দোল খাচ্ছে। শীতেরশেষে আম গাছের কচি ডগা ভেদ করে সবুজ পাতার ফাঁকে হলদেটে মুকুলগুচ্ছ উঁকি দিয়ে হাসছে। বাগানের নিরবতা ভেঙে মৌমাছির একটানা গুনগুন গানে মাতোয়ারা প্রকৃতি। বাগানও সেজেছে অপরুপ সাজে। কয়েকদিনের মধ্যেই মুকুল পরিণত হবে গুটিতে। আমের মুকুলে কৃষকের স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। সেই সোনালি স্বপ্ন বুকে ধারণ করেই মহেশপুরের বাগান মালিকেরা পরিচর্যা করে চলেছেন।
মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চাষিরা আমের বাগান করে বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ করছেন। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর কৃষকরা নতুনভাবে আমের বাগান করছেন। আম্রপালি, লেংড়া, হাড়িভাঙা, মল্লিকা, থাই, গোপালভোগ, বারি-১০, বেনারশি, সিতাভোগ ছাড়াও দেশি প্রজাতির আম চাষ করছেন চাষিরা। তবে এরমধ্যে সিংহভাগই আম্রপালি জাতের।
কৃষি সম্প্রসারণ আফিস সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে ১২হাজার ২৪০ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
কথা হয় মহেশপুর উপজেলার জলিলপুর গ্রামের আম চাষি রিপন হোসেনের সাথে। তিনি জানান, এবছর আমের গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার রোগ বালাই দেখা দেয়নি।   আবহাওয়াও ভাল। যদি প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে, তাহলে প্রচুর পরিমাণে আমের ফলন আসবে।
উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আম চাষি গোলাম ফারুক জানান, গাছগুলোর যত্ন শুরু হয় বাগানের আম শেষ হওয়ার সাথে সাথেই। বাগানে গাছের পুরাতন বোটা ভেঙে ফেলা, চাষ দেয়া, জমির পাতা পরিষ্কার এবং মুকুল আসার আগে এবং পরে বাগানে ভালভাবে স্প্রে করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী জানান, আম লাভজনক ফসল। এবার বাগানে যে পরিমাণে মুকুল এসেছে, প্রকৃতিক দুর্যোগে না পড়লে বাম্পার ফলন পাবেন কৃষকরা।

আরও পড়ুন