চীন-ভারত-নেপাল বিরোধ ও আমাদের নিরাপত্তা

আপডেট: 02:41:20 01/06/2020



img

এম সাখাওয়াত হোসেন

বিশ্ব এখনো করোনা মহামারির প্রকোপ থেকে বের হতে পারেনি। প্রায় তিন মাস জনজীবন স্থবির হয়ে রয়েছে। স্থবির হয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক চেষ্টা করেও পারছে না এগোতে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তি করোনাকেও কাবু করতে পারছে না। সেদেশে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে করোনাভাইরাসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে করোনা মহামারির প্রকোপে যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ৪০ লাখ মানুষ চাকরিহারা হবে।
অন্যদিকে উপমহাদেশেও করোনার প্রকোপে দেশগুলোর স্বাস্থ্য আর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দৈন্যদশার চেহারা ফুটে উঠেছে। ভারত আক্রান্ত দেশের মধ্যে দশম স্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ লাখ মানুষ চাকরিহারা অবস্থায় রয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৫ শতাংশের নিচে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মোদি সরকার এক অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটে; যার জের সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি এবং রাজনীতির ওপর পড়তে যাচ্ছে।
অন্যদিকে যে দেশ থেকে এই মহামারির উৎপত্তি, সেই চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তেমন বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা না করলেও বিশ্বব্যাপী চীনের যে বাণিজ্যক্ষতি হয়েছে, তা দৃশ্যমান। পাকিস্তানের অর্থনীতির অবস্থা এমনিতেই ভঙ্গুর। বাংলাদেশের অবস্থা নতুন করে বলার নেই। উপমহাদেশের অন্য আরেক দেশ নেপাল অনেকটা ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এই যখন পরিস্থিতি, এর মধ্যেই উপমহাদেশের উত্তর সীমান্ত, বিশেষ করে চীন-ভারত ও ভারত-নেপাল সীমান্তে—তিন দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ উত্তেজনা সামরিক ও আন্তসীমান্ত বিবাদ। ১৯৬২ সালের পর থেকে আকসাই চীন এলাকা চীন-ভারতের জন্য বড় ধরনের উত্তেজনার বিন্দু হিসেবে রয়েছে। অন্যদিকে নেপালের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের মহাকালী নদীর উৎপত্তিস্থলে কালাপানি অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে বিবাদ ১৯৯০ সাল থেকে—যখন নেপালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়—শুরু হলেও বর্তমানে তুঙ্গে রয়েছে। নেপাল তার নতুন মানচিত্রে সঠিকভাবে নির্ণীত না থাকা ওই এলাকা নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করাতে ভারতের সঙ্গে টানাপড়েন শুরু হয়। নেপালের দাবি যে মহাকালী নদীই আন্তর্জাতিক সীমানা, যা কালাপানি অঞ্চল থেকে দুই ভাগ হলেও মূল নদী বরাবরই সীমান্ত নির্ধারিত। যদিও ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের সময় থেকেই ভারত ওই এলাকায় সামরিক চৌকি স্থাপন করে, যা এখনো বিদ্যমান। নেপালের দাবি, ১৮৪০ সালে অ্যাংলো–নেপাল যুদ্ধের পর সুগৌলি চুক্তি মোতাবেক যে সীমান্তরেখা টানা হয়েছিল, তা পশ্চিমে মহাকালী নদী বরাবর—শুধু কালাপানি অঞ্চলের কথা সে সময় ঊহ্য থাকে। ভারত সে সুযোগ নিয়েছে এবং প্রায় ৫০ বছর নেপালে রাজতন্ত্র থাকায় ওই সময়কার জনবিচ্ছিন্ন সরকার এ সমস্যা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। স্মরণযোগ্য যে, এ অঞ্চল সামরিক দিক থেকে অতিগুরুত্বপূর্ণ এবং চীন সীমান্ত-সংলগ্ন। চীনের সঙ্গে ভারতের এ অঞ্চল দিয়ে যোগাযোগের একমাত্র পথ লেপুলেক গিরিপথ। এত দিন এ পথে বাণিজ্যও হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে নেপালের এই অস্বস্তি বাড়ে যখন মে মাসের প্রথম দিকে ভারত নেপালের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এই বিতর্কিত অঞ্চল দিয়ে উত্তরাখন্ড হয়ে মানস সরোবরগামী তীর্থপথ তৈরিতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তার উদ্বোধন করে। নেপালের বর্তমান কমিউনিস্ট সরকার ভারতের এই একতরফা কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে কড়া প্রতিবাদ জানায় এবং নতুন নকশায় ওই অঞ্চল নেপালের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়, যখন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল এম নারাভান এক বিবৃতি দিয়ে বলেন যে, নেপাল নিজের বলে নয় বরং অন্য কোনো শক্তিবলে এ ধরনের আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের সেনাপ্রধানের এ ধরনের বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতই নয় বরং অসৈনিকসুলভ রাজনৈতিক বক্তব্যের তুল্য।
উল্লেখ্য, ভারতের সেনাবাহিনীতে ২০ ব্যাটালিয়ন গুর্খা সৈনিক কর্তব্যরত, যাদের বেশির ভাগ চীন সীমান্তে নিয়োজিত। যদিও ভারতীয় সেনাপ্রধান কোনো দেশের নাম নেননি, তবে সহজেই বোধগম্য যে তিনি চীনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। বর্তমানে চীন-নেপাল অর্থনৈতিক করিডোরে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে কাঠমান্ডুর রাস্তায় ভারতবিরোধী মিছিল বের হচ্ছে। নেপাল বলেছে যে, ভারতের এই আগ্রাসন করোনাভাইরাসের চেয়েও মারাত্মক। এর আগে নেপালে করোনাভাইরাস ছড়ানোর দায় ভারতের ঘাড়েও চাপিয়েছেন নেপালের কয়েকজন নেতা।
নেপাল-ভারতের এই উত্তেজনা সামরিক সংঘাতের পথে না গেলেও ভারতের জন্য শুধু বিব্রতকরই নয় বরং উদ্বেগজনক। কারণ, ইতিমধ্যে লাদাখ সীমান্তে প্রতিদিনই সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও ভারত সরকার এখনো লাদাখ ও আকসাই চীন অঞ্চলের সামরিক উত্তজনা তেমনভাবে জনসমক্ষে আনতে পারছে না, কারণ সে ক্ষেত্রে মোদি সরকারের ওপর চীনের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের চাপ বাড়তে পারে।
ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত উত্তেজনার পেছনে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যু থাকলেও করোনা মহামারি ঘিরে বৈশ্বিক বিষয়ও রয়েছে। ইদানীং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়ানোর দায় চীনের ওপরে চাপিয়ে চলেছেন। তিনি বলেছেন, এই ভাইরাস প্রাকৃতিক নয় বরং চীনের উহান পরীক্ষাগার থেকে ছড়ানো হয়েছে, যাতে হংকংয়ের গোলযোগ থেকে দৃষ্টি সরানো যায়। অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন বক্তব্য সমর্থন করেনি। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অর্থসাহায্য বন্ধ করে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন পর্যন্ত করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ সংস্থাটি চীনের হয়ে কাজ করেছে। ইদানীং ট্রাম্প বেশ আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে যে বিষোদ্গার উদগিরণ করছেন, তাতে অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশ যোগ দিয়েছে। সংক্রমিত ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ভারতকে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড় করার প্রয়াসে রয়েছে। যদিও ভারত প্রকাশ্যে তেমন কোনো বক্তব্য না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানও করেনি। উপরন্তু ভারতের সঙ্গে আকসাই-চীন অঞ্চলে চীনের সামরিক উত্তেজনায় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পক্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছে। এর মানে যেকোনো সংঘর্ষে ভারতের পক্ষে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সরাসরি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র উপস্থিত হবে বলে তেমন মনে হয় না। ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত সংঘর্ষ হলে চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র যে চাপ প্রয়োগ করবে, সেই অঙ্ক কষে রেখেছে চীন। ওই সাগরে রণতরি বৃদ্ধি এমনকি বিমানবাহী দুটি রণতরি তৈরি রেখেছে চীন।
ভারত-চীনের মুখোমুখি হওয়া শুধু লাদাখের আকসাই চীন অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে চীনের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলো প্রস্তুত। সমগ্র চীন-ভারত সীমান্তজুড়ে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রাস্তা তৈরি করেছে চীন, যাতে সামরিক চলাচল ও সরবরাহে কোনো সমস্যা না হয়। অন্যদিকে লেহ থেকে রেলব্যবস্থাও সামরিক খাতকে সহায়তার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে।
এ মুহূর্তে ভারত-চীন মুখোমুখি রয়েছে প্যানগং হ্রদের ভারতীয় অংশে, গুলমান উপত্যকায় দেমচক অঞ্চলে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সিকিমের উত্তর-পূর্বে নাকুলা অঞ্চলে দুই দেশের সৈনিকদের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়িসহ হাতাহাতিও হয়েছে। তথ্যে প্রকাশ, প্রায় ১২ জন ভারতীয় সেনাসদস্যকে চীন কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখেছিল। আকসাই চীন বরাবর নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি দৌলত বেগ ওন্তির কাছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর রানওয়ে তৈরি ও ছোট ঘাঁটি তৈরির বিষয়টিতে চীন ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সরকারের ভেতরে এবং বাইরের বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের ১৪ হাজার ফুট ওপরের এ যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের পাল্লা ভারী এবং এখনই তার উপযুক্ত সময়। এর মাধ্যমে ভারত ১৯৬২ সালের লজ্জার হারের প্রতিকার করতে পারে। তদুপরি গত বছরে অমিত শাহের অঙ্গীকার ছিল যে, পাকিস্তানের কাশ্মীর, বাল্টিস্তান গিলগিতসহ আকসাই চীন তারা জীবনের বিনিময়ে হলেও ফিরিয়ে আনবেন। তবে কতখানি সহজ হবে, তা নিশ্চয় ভারতের জেনারেলরা ভালো করে জানবেন।
চীন-ভারত সীমান্তযুদ্ধ শুধু লাদাখ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ছড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশের সন্নিকটে অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে। চীন অরুণাচলসহ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা পর্যন্ত তিব্বতের বাইরের অংশ বলে মনে করে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে তারা অরুণাচলের তোয়াং অঞ্চলসহ এক-তৃতীয়াংশ দখল করেছিল। পরবর্তী সময়ে এককভাবে সৈন্য প্রত্যাহার করেছিল। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা এখনই সেই হারের প্রতিশোধের সময় মনে করলেও, তেমন পরিস্থিতিতে নেপাল কোন পথে থাকবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গুর্খা সৈনিকেরা নেপালের নাগরিক। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিষয়টি তো আরও বড় ব্যাখ্যা হতে পারে।
এ ধরনের সংঘাতের যে আশঙ্কা, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না; তাতে ভারত চীনকে কাবু করতে কৌশলগত পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবে না, তার নিশ্চয়তা নেই। যদিও এখন পর্যন্ত ভারত তেমন ইঙ্গিত না দিলেও অমিত শাহ এবং অনুসারীরা মনে করে, ভারত এখন ১৯৬২ সালের পর্যায়ে নেই। তারা এখন চীনের সমকক্ষ এবং পারমাণবিক অস্ত্রে বলীয়ান। ব্যালিস্টিক না হলেও রণক্ষেত্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।
প্রশ্ন থাকে যে উপমহাদেশের আর দুটি দেশ পাকিস্তান আর নেপাল পক্ষে-বিপক্ষে জড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশের অবস্থান এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কতখানি। সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক চীনের সমতুল্য না হলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক এর চাইতে ভালো কখনোই ছিল না।
এ অবস্থায় ভারত-বাংলাদেশ করিডোর বা ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ভূমি পূর্ব রণাঙ্গনের জন্য ব্যবহারের অনুরোধ জানালে আমরা কোন অবস্থানে থাকব? স্মরণযোগ্য যে, ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানকে চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে সহায়তার জন্য তৎকালীন ইরানের শাহ অনুরোধ করেছিলেন। পাকিস্তান আমলে নেয়নি। ভারতের তৎকালীন নেফাতে (বর্তমান অরুণাচল প্রদেশ) আটকে পড়া ভারতীয় সৈনিকদের সাহায্য করার নির্বিঘ্ন পথ ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, যা তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ব্যবহার করতে দেয়নি—এমন তথ্য ওই সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এখন সে পরিস্থিতি নেই। বাংলাদেশের অভ্যন্তর দিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তর-পশ্চিম ভারতের সঙ্গে একাধিক যোগাযোগ পথ খুলছে।
যা-ই হোক, আশা করি উপমহাদেশের এই টানাপড়েন সামরিক শক্তি দিয়ে নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক। তবে খারাপ পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি অবশ্যই প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়। আমরা আমাদের স্বার্থরক্ষার আগাম চিন্তা যেন করে রাখি।
আশা করি নেতারা নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে এ অঞ্চলের বিশাল গরিব অসহায় জনগোষ্ঠীকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবেন না। এক করোনাভাইরাসে দেখিয়েছে তথাকথিত পরাশক্তিও কত অসহায়। যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। অন্যথায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না।
পরিশেষে বলতে হয়, উপমহাদেশ বর্তমানে বারুদের স্তূপের ওপরে রয়েছে। আর আগুন দেওয়ার শক্তিরও অভাব নেই। নিজেদেরই নিজেদের পথ বেছে নিতে হবে।
[প্রথম আলোর বিশ্লেষণ]

আরও পড়ুন