চুয়াডাঙ্গায় আমচাষিদের ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট: 02:43:09 28/05/2020



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বাংলাদেশে কার্যত যে লকডাউন চলছে, এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আম্পানের আঘাতেও বাগান মালিকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপরও সময় মতো সব আম বিক্রি করতে পারবেন কি না তা নিয়েও সংশয়ে আছেন চাষিরা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় এক হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। চলতি মৌসুমে এক হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। এ হিসেবে চলতি মৌসুমে ৩০ হেক্টর জমিতে আমের নতুন বাগান হয়েছে। এ সব বাগান থেকে ফলন হওয়ার কথা ২৯ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন আম। পাইকারি প্রতি মণ এক হাজার ২০০ টাকা হিসেবে আম বিক্রি বাবদ ৮৯ কোটি দশ লাখ টাকা আয় হওয়ার কথা।
লাভজনক হওয়ায় জেলার চাষিরা আমবাগান তৈরি করার দিকে ঝুঁকছেন। তবে সাম্প্রতিক ঝড়ে দশ হাজার ৫৮৪ টন আমের ক্ষতি হয়েছে। যার দাম প্রায় ৩১ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ‘জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মাঠে ২০১২ সালে ৪০ লাখ টাকায় ৭০ বিঘা জমি বর্গা নিই। এরপর দশ হাজার আমের চারা রোপণসহ বাগান তৈরি করতে আরো ৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়। এখনো খরচের সিংহভাগই উঠে আসেনি। এবার ফলন ভালো হয়েছে। করোনার কারণে বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তবে আমাদের এলাকার হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, আম্রপালিসহ অনেক ভালো ভালো জাতের আম ফলে। এ সব আম খুবই সুস্বাদু, দেশ বিদেশে এর খ্যাতি আছে। তবে পর পর দুটি ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ মৌসুমে আম বিক্রি করে সারা বছরের বাগান পরিচর্যা ও শ্রমিকের মজুরি উঠে আসবে না।’
আম বর্গাচাষি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত আম জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠাই। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের এই আমগুলো বাজারজাত করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
আম বর্গাচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে বয়ে যাওয়া আম্পান ও কালবৈশাখী ঝড়ে প্রচুর আম গাছ থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। অবশিষ্ট যে আমগুলো গাছে আছে, এর সঠিক বাজারজাতকরণ দরকার। আমরা সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।’
আমবাগান শ্রমিক ফরজুল খাঁ বলেন, ‘গাছে মুকুল আসার আগ থেকে ১৮-২০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করি। আমাদের প্রতিমাসে নয় থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন দেয়। আম গাছ থেকে পাড়ার সময় আরো অতিরিক্ত শ্রমিক নেওয়া হয় দিন হাজিরায়। তাদেরকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা করে দেওয়া হয়।’
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী হাসান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার হিমসাগর আম বিখ্যাত। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে সঠিক দামে আম বিক্রি করতে পারে, এ জন্য জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমরা এক সঙ্গে কাজ করছি। এ জেলা থেকে বিভিন্ন মোকামে আম পাঠাতে বা বিক্রি করতে কোনো ধরনের সমস্যা যাতে না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছি। বিভিন্ন মোকাম থেকে যে সকল ব্যবসায়ী চুয়াডাঙ্গায় আম কিনতে আসবেন তাদের নির্বিঘ্নে আসা, থাকা, খাওয়া এবং নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সব কিছুর দেখভাল করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। তবে সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমসহ সকল প্রান্তিক চাষিকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। এ জেলার হিমসাগরসহ বিভিন্ন জাতের আমের চাহিদা রয়েছে দেশে-বিদেশে।’
করোনার কারণে আম বিক্রি নিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তা করলেও ন্যায্যমূল্য ও মোকামে পাঠানোর ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ দাবিসহ ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন এখানকার আমচাষিরা।

আরও পড়ুন