চেয়ারম্যানের গ্রামেই ভিজিএফের টাকা পাননি দেড়শ' লোক

আপডেট: 07:32:03 16/05/2021



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : যশোরের মণিরামপুরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের দেওয়া ভিজিএফের জনপ্রতি ৪৫০ টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে তালিকায় নাম থাকলেও ঈদের আগে টাকা বিতরণ করেননি অনেক ইউপি মেম্বর চেয়ারম্যান। আবার অনেক দুস্থ লোক একাধিকবার ভোটার আইডি কার্ড জমা দিলেও তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এমন অসংখ্য অভিযোগ উপজেলার রোহিতা ইউপির আট নম্বর মুড়াগাছা ওয়ার্ডের দুস্থদের। ওই গ্রামেই ইউপি চেয়ারম্যান আনছার সরদারের বাড়ি।
চেয়ারম্যান মেম্বরসহ সংশ্লিষ্টদের দাবি, তালিকা যাচাইবাছাই করতে দেরি হওয়ায় সময়মত অনেকের টাকা পেতে সমস্যা হতে পারে। ঈদের ছুটি শেষ হলে তালিকাভুক্তরা টাকা পেয়ে যাবেন।
মুড়াগাছা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি গোলাম আলী বলেন, ৪৫০ টাকা বিতরণের জন্য মুড়াগাছা গ্রামের ২৫৫ জনের তালিকা করা হয়েছে। তারমধ্যে দেড়শ' লোক টাকা তুলতে পারিনি। অনেকে ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে কাউন্সিলে গেছে; টাকা পাইনি।
মুড়াগাছা গ্রামের সফুরা বেগম বলেন, আইডি কার্ড দিছি চেয়ারম্যানের কাছে। পরে চেয়ারম্যানের বাড়ি গিলি আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে বলে আবারও কার্ড চায়। নতুন করে আবার দিছি। পরে চেয়ারম্যানের কথায় কাউন্সিলে গিছি। আমারে টাকা না দিয়ে ফেরত পাঠাইছে।
ওই গ্রামের শাহিদা খাতুন বলেন, আমি রোজা রেখে ৫০ টাকা খরচ করে কাউন্সিলে গিছি। আমারে টাকা দিইনি।
আব্দুল মজিদ নামে এক চা দোকানি বলেন, আইডি কার্ড দেওয়ার পর টাকা বিতরণের দিন আমরা গ্রামের ৩৬ জন একসাথে গিছি। আমাদের কাউকে টাকা দিইনি। এছাড়া আইডি কার্ড জমা দিয়েও টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন মুড়াগাছা গ্রামের আব্দুস সাত্তার, আমিন হোসেন, মমিনুর রহমান, শফিকুল, আজিজুরসহ অনেকে।
এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানোয়ার হোসেন বলেন, টাকা বিতরণর দিন আমি ছিলাম না। দুইজন ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে টাকা দিয়েছেন। কেউ না পেয়ে থাকলে এখন পাবেন।
রোহিতা ইউপি সচিব কৃষ্ণগোপাল মুখার্জি বলেন, ইউনিয়নে মোট ৩০০ লোকের টাকা দিতে বাকি আছে। সোমবার (১৭মে) থেকে টাকা বিতরণ শুরু হবে।
জানতে চাইলে রোহিতা ইউপি চেয়ারম্যান আনছার সরদার বলেন, এক গ্রামের দেড়শ' লোক টাকা পাইনি এটা ঠিক না। দুই একজন হয়তো বাকি থাকতে পারে। এবার তারা পাবে।
মণিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বায়েজিদ বলেন, ২৫ মে'র  মধ্যে সব ইউনিয়ের টাকা বিতরণের মাষ্টার রোল অফিসে জমা দেওয়ার কথা। চেয়ারম্যান সচিবদের বলা হয়েছে, কেউ টাকা নিতে না আসলে তার বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এখনো টাকা না পাওয়ার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেননি।

আরও পড়ুন