চেয়ারম্যানের বাড়িতে সোলার প্যানেল, তদন্ত হচ্ছে

আপডেট: 06:36:59 09/01/2020



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছার তিন নম্বর সিংহঝুলি ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল তার নিজ বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের এক লাখ আট হাজার ৭৮০ টাকা দামের এসি সোলার প্যালেন (সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা) ব্যবহার করছেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তদন্ত কমিটির আহব্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আতিকুর রহমান তালুকদার (সহ-প্রোগ্রামার) মো. ছালাউদ্দীন (উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা) মো. নাজিম উদ্দিন (উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা) এবং মো. আনিছুর রহমান (উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা, প্রজীপ, বিআরডিবি)।
কমিটিকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম।
ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল তার আমজামতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছেলে সামাউল ইসলাম সাগরের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে এই সোলার প্যানেলটি নিজের টিনশেডের বসতঘরে স্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে বুধবার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।  প্রতিবেদন প্রকাশের পর এনিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সৌর বিদ্যুতের সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমেই তিনি নিজের ছেলের নামে নিজ বাড়িতে এই সোলার স্থাপন করেছেন। তিনি ছাড়াও উপজেলার একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য এইভাবে সোলার প্যানেল নিজেদের বাড়িতে স্থাপন করেছেন।
রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (আরডিএফ) চৌগাছা শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি বরাদ্দের ৭০০ ওয়াট সরবরাহ ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুতের প্যানেল বরাদ্দ পান সামাউল ইসলাম সাগর। নিয়মানুযায়ী আমরা তার বাড়িতে সেটি লাগিয়ে দিয়ে এসেছি।’
সামাউলের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে।’
এই পরিমাণ অর্থে ইউনিয়নের আটটি বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব হতো বলে জানিয়েছেন সোলার প্যানেল স্থাপনে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সেলিম রেজা।
সংবাদ প্রকাশের পর এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বিষয়টি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে।
কোনোভাবেই ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা সুবিধাভোগী হতে পারবেন না, জানান ইউএনও।

আরও পড়ুন