চৌগাছায় এবার বলুহ মেলা আয়োজনের বিপক্ষে বিশিষ্টজনেরা

আপডেট: 08:47:40 12/09/2020



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছার ‘পীর বলুহ দেওয়ান (রহ.)-এর মেলা’ এবার বন্ধ রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলার বিশিষ্টজনেরা।
তাদের মতে, বলুহ দেওয়ানের (রহ.) মেলায় লাখ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটে। ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতি বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ তীরবর্তী হাজরাখানা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ দেওয়ানের (রহ.) ওরশের সময় স্থানীয়রা যশোর জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে মেলার আয়োজন করে থাকেন। প্রাচীন এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে লাখো মানুষ। প্রতি বছর তিন থেকে ১৫ দিন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলা আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যে ‘মেলা কমিটি’ যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আবেদন করেছে। তবে শনিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, ‘করোনা থেকে বাঁচতে এবং সাধারন জনগনকে বাঁচাতে এ বছর এ মেলার আয়োজন করা সমীচিন হবে না। মেলা হলে করোনা সংক্রমণের আশংকা থাকবে। মেলা কমিটি একটি আবেদন করেছে। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমার মতামত জানতে চাইলে আমি অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে মত দেবো।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. নুৎফুন্নাহার লাকি মনে করেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যে হাজারো মানুষের সমাগম হবে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে এবং প্রতিদিন মেলায় আগত হাজারো মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে বাঁচাতে মেলা বন্ধ রাখা উচিত।
চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, করোনার ভয়ে সরকার এখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না। সর্বত্র লোক সমাগম না করতে বার বার নির্দেশ দিচ্ছে। সেখানে মেলা হওয়ার প্রশ্নই আসে না। স্কুল-কলেজের ছেলে মেয়েরা দীর্ঘদিন ঘরে বসে আছে। মেলা হলেই তাদের আর আটকানো যাবে না। তখন এই করোনা উপজেলার সর্বত্র ভয়ঙ্করভাবে প্রভাব বিস্তার করবে। যার ফলে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তখন এই দায়দায়িত্ব কে নেবে?
চৌগাছা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, ‘যে করোনার ভয়ে ঈদের জামাত এবং দুর্গাপূজার মতো ধর্মীয় উৎসব পালনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে, সেখানে মেলা হবে কেন? মেলা করার বিপক্ষে প্রয়োজন হলে আমরা মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাবো।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, সরকার অনুমতি দিলে তবেই মেলা হওয়া না হওয়ার প্রশ্ন। করোনা মহামারির কথা মাথায় রেখে সরকারি অনুমতি নির্ভর করবে বলে মনে করেন তিনি।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, ‘এখনো মেলার অনুমতি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। সরকারিভাবে অনুমতি পেলেই মেলা হবে। তার আগে মেলা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও অন্যান্য বছরগুলোয় মেলা কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, ‘আমি চাই না আমার ইউনিয়নসহ উপজেলাবাসী করোনা রোগে আক্রান্ত হোক। তারপরেও এটা জেলা প্রশাসকের ব্যাপার। তিনি অনুমতি দিলে মেলা হবে, নতুবা হবে না।’

আরও পড়ুন