চৌগাছায় বাবার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট: 07:52:10 14/05/2020



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় নিজের পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়েকে দা দিয়ে কেটে ফেলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
১২ মে ওই শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছে তার বাবার বিরুদ্ধে।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে ওই ব্যক্তি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায়। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যদিও গ্রামেরই একটি সূত্র বলছে, ঘটনাটি পুরো সাজানো।
অভিযোগকারী শিশুটি উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের একটি গ্রামের জনৈক শরিফুল ইসলামের মেয়ে। গ্রামেরই সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সে। বাবা দ্বিতীয় স্ত্রীর পরামর্শে তার সর্বনাশ করেছে বলে অভিযোগ করছেন শিশুটির মা।
শিশুটির ভাষ্য, ‘আব্বা প্রায় দুই মাস আগে আমাকে নতুন জামা-কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে চৌগাছা বাজারে নিয়ে যায়। বাজার থেকে ফিরতে দেরি হয়। কিন্তু আমাকে বাড়িতে না নিয়ে দেবীপুর বাজারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চাকলা গ্রামের একটি বাগানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় আমিস দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করি। আবারো আমাকে বুঝিয়ে দেবীপুরের পাশেই একটি বড় বাগানে নেওয়ার চেষ্টা করে। সেখান থেকেও পালাতে দৌড় দিই। কিন্তু আব্বা আবারো ধরে একটি বালির গর্তে নিয়ে যায়। তার হাতে থাকা একটি দা দিয়ে জবাই করার ভয় দেখিয়ে সেখানে আমাকে ধর্ষণ করে।’
শিশুটির দাবি, এই কথা কাউকে বললে তাকে জবাই করে মারার হুমকি দেয় তার বাবা। এমনকি তার মাকে বললে দুজনকেই জবাই করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
মেয়েটি আরো বলে, এরপর একদিন তার মাকে বেদম মারধর করে বাবা। তখন তার মা তাকে রেখে নানার বাড়ি (মায়ের বাপের বাড়ি) চলে যেতে চায়। সেদিন সে মায়ের কাছে এই ধর্ষণের কথা বলে দেয়। এরপর একে একে ঘটনা জেনে যায় শিশুটির দাদা-দাদি, মা, অন্য চাচা ও চাচিরাও। এক পর্যায়ে গ্রামের মানুষও বিষয়টি জেনে যায়। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে শিশুটির মা শবে বরাতের পরের দিন মেয়েকে নিয়ে-নিজের বাপের বাড়ি উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে ফিরে আসেন। বর্তমানে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন।
জানতে চাইলে মেয়েটির বড় চাচি, আরেক ছোট চাচাও ঘটনাটি সত্য বলে দাবি করেন। মেয়েটির ওই চাচা বলেন, বিষয়টি তার বড় ভাই শরিফুলের কাছে জানতে চেয়েছেন। কিন্তু সে অস্বীকার করেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ভাই এখন বাড়িতে নেই। ভাবি ও ভাতিজি বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর ভাইও বাড়ি ছেড়ে কোথায় চলে গেছে। এমন ঘটনা গ্রামে প্রকাশ হওয়ায় আমাদের মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নেই।’
শিশুটির দাদা (৭২) বলেন, ‘কিছু না ঘটলে এতোদিন পরে এসব কথা হবে কেন? কেনই বা বউমা তার মেয়েকে নিয়ে চলে যাবে?’
আপনারা বিচার চান কিনা জানতে চাইলে শিশুটির দাদি বলেন, ‘আমরা ছেলের সাথে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছি।’
কেমন বিচার চান- প্রশ্নে শিশুটির দাদি বলেন, ‘বাবা, ব্যাপারটা ঠিক করা যায় না?’
নির্যাতিত শিশুটির মা বলেন, ‘২০০১ সালে আমার বিয়ে হয়। স্বামী আমার ওপর খুবই অত্যাচার করে। যখনই টাকা-পয়সা কম হয়ে যায় আবার নির্যাতন করে। তিন বছর আগে সে আরেকটা বিয়ে করেছে। আমাকে আগেও নির্যাতন করতো, নতুন বিয়ের পরে সেই নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে জিনিস ও নগদ টাকা দিয়ে আমার বাবার কাছ থেকে দশ লাখ টাকা নিয়েছে। এরপরও টাকা চেয়ে নির্যাতন করে। তবুও আমি কোথাও যায়নি। আমাকে তাড়ানোর জন্যই সে দ্বিতীয় বউয়ের পরামর্শে নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি চাই তার কঠিন শাস্তি হোক।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত শরিফুলকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করে বলেন, রং নাম্বার। শরিফুল নামে কেউ নেই। এটা ফেনীর নাম্বার।
পরে বৃহস্পতিবার অনেকবার কল দেওয়ার পর ফোন রিসিভ করে শরিফুল বলেন, এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তবে মেয়েকে নিয়ে গত ফেব্রæয়ারি মাসের ১৫-১৬ তারিখে চৌগাছা বাজারে জামা কিনতে গিয়েছিলেন এবং ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায় বলে স্বীকার করেন। এরপর ফোন কেটে দেন শরিফুল।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে শরিফুল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা ও নানা।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি।’
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনা যেহেতু দুই মাস আগের, তাই তদন্ত না করে কিছু বলা যাবে না।’
তবে গ্রামেরই আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর শরিফুলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন প্রথম স্ত্রী। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন