চৌগাছায় মেছোবাঘ ধরে বিপাকে কৃষক

আপডেট: 11:44:57 14/02/2020



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় একটি মেছোবাঘ (বাঘডাসা) আটক করেছে কৃষকরা। তিনদিন ধরে মেছোবাঘটি তাদের হেফাজতে থাকলেও বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিতে আসেননি।
বুধবার রাতে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রাম থেকে মেছোবাঘটিকে আটক করেন কৃষকরা। এরপর থেকে বস্তায় ভরে রাখা হয় সেটিকে। পরে শুক্রবার একটি মুরগি রাখার খাঁচায় বাঘটিকে রেখেছেন তারা।
এবিষয়ে শুক্রবার সকালে উপজেলা বন কর্মকর্তা ওমর আলী গাজী এবং বেনাপোল স্থলবন্দর বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের বন কর্মকর্তা মামুন-অর-রশিদকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেননি তারা। ফলে বিপাকে রয়েছে কৃষক পরিবারটি।
গ্রামবাসী জানান, ধরার সময়ে বাঘটি একজনকে কামড়ে দেয়। এখন ছেড়ে দিলে অন্য কাউকে যদি কামড়ে দেয় অথবা কেউ বাঘটিকে মেরে ফেলে, তাহলে তো সর্বনাশ।
তিলকপুর গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতা মিয়া জানান, গত বুধবার রাত দশটার দিকে নিজের বাড়িতে প্রবেশের মুখে গেটেই তিনি বাঘটিকে দেখতে পান। তখন তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে চিৎকার করলে গ্রামের লোকজন জড়ো হয়। এসময় বাঘটি তার মেজ ভাই সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে সবাই মিলে বাঘটিকে ধরে ফেলেন তারা।
লতা মিয়া বলেন, ‘ধরার সময় মেছোবাঘটি আহমদ আলী নামে একজনকে কামড়ে দেয় এবং আমাকেও কয়েকবার কামড়াতে আসে। পরে বাঁশ দিয়ে আঘাত করে ওটিকে কাবু করি। এরপর সেটিকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি করে রাখা হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে একটি মুরগি রাখার খাঁচায় বাঘটিকে স্থানান্তর করা হয়।’
লতামিয়া বলেন, ‘ভারত সীমান্ত লাগোয়া আমাদের গ্রাম। সীমান্তের ওপারে রয়েছে বনজঙ্গল। সেখান থেকেই হয়তো বাঘের বাচ্চাটি এদিকে চলে এসেছে।’
ধরা পড়া মেছোবাঘটি আনুমানিক এক ফুট উচু ও আড়াই ফুট লম্বা।
এদিকে, সংবাদ পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক চৌগাছা উপজেলা বন কর্মকর্তা ওমর আলী গাজী এবং বেনাপোল স্থলবন্দর বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের বন কর্মকর্তা মো. মামুন-অর-রশীদকে বিষয়টি জানান। মামুন-অর-রশিদ বেলা ১১টার দিকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি।’ তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো উদ্যোগ নেননি। বন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগও করা হয়নি।

আরও পড়ুন