চৌগাছায় সাড়ে তিন বিঘা জমির আমগাছ কর্তন

আপডেট: 07:50:35 28/11/2019



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় ফারুক ইকবাল নামের এক ব্যক্তির তিন বিঘা জমির আমগাছ (আম্রপালি) একরাতেই কেটে সাবাড় করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। একই রাতে এক মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেতের চারটি লিছুগাছও কেটে দিয়েছে তারা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ওই ক্ষেতে গেলে দেখা যায়, পুরো তিন বিঘা জমিতে মাত্র তিনটি ছোট আমের চারা কাটা হয়নি। বাকি গাছগুলো সব কেটে ফেলে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। একইসঙ্গে ফারুকের প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের মাঠের অপর প্রান্তের একটি লিচুবাগানের চারটি গাছ (যেগুলোতে গত বছরও লিচু এসেছিল) কেটে ফেলা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মাঠে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ব্যক্তি চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, বিগত তিন বছর ধরে ওই মাঠের বেশ কয়েক কৃষকের আম ও লিচুবাগান এভাবেই রাতের আধাঁরে কেটে সাবাড় করছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।
ভুুক্তভোগী যশোর শহরের দড়াটনা এলাকার ফাতেমা অপটিকসের স্বত্বাধিকারী ও চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক ইকবাল জানান, তিন বছর আগে গ্রামের মাঠে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের প্রায় দেড়শ’ আমের চারা লাগান তিনি। গাছগুলোতে আসন্ন মৌসুমে মুকুল আসার উপযুক্ত হয়ে গেছে। এমন সময়ে গত বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত ওই দুর্বৃত্তরা বাগানে ঢুকে সব গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।
আমগাছের সঙ্গে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিদের কী শত্রুতা তা তিনি বুঝতে পারছেন না ফারুক। আমগাছ লাগানোর আগে একই জমিতে তিনি থাই পেয়ারা চাষ করেন। পেয়ারাগাছে ফুল আসা শুরু হলে জমির এক হাজার পেয়ারার চারাও একইভাবে কেটে ফেলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। পরে পেয়ারার চাষ বাদ দিয়ে তিনি আম চাষ করেন। কিন্তু পেয়ারার মতো আমেরও একই পরিণতি হলো। পেয়ারা ও আম চাষ করতে গিয়ে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন বলে জানান।
ফারুক ইকবাল জানান, যশোর শহরে থাকার সুবাদে তিনি এক ব্যক্তিকে মাসিক বেতনের চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। আমবাগানসহ তাদের অন্য বাগানও ওই ব্যক্তিই পরিচর্যা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে কর্মচারী গোলাম রব্বানীর মাধ্যমে বাগানমালিক ফারুক ইকবাল এই ঘটনা জানতে পারেন। পরে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ওই ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো তিন বিঘা জমিতে মাত্র তিনটি ছোট আমের চারা অক্ষত আছে। বাকি গাছগুলো সব কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
ফারুক ইকবালের প্রতিবেশী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহ-কমান্ডার শহিদুল ইসলামের একটি লিচুবাগানের চারটি গাছও একই রাতে কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
শহিদুল ইসলাম বলেন, গত তিন বছর ধরে একটি কুচক্রী মহল মাঠের বিভিন্ন ফসল ও গাছ এভাবে কেটে ফেলছে। তাদের উদ্দেশ্য কী- এটা বুঝাও যাচ্ছে না। ওই ব্যক্তিরা বরাবরই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির লিচুগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সালে তারই চাচাতো ভাই গ্রামের রফিউদ্দিনের দেড় বিঘা জমির প্রায় একশত আমগাছ কেটে ফেলা হয়। একইভাবে গ্রামের তবিবুর রহমানের তিন বিঘা জমির আমগাছ, মতিউর রহমানের সাড়ে তিন বিঘা জমির আমগাছ এভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কেটে ফেলে দেয়।
তিনি বলেন, কেন তারা এসব করছে তা বোঝা যাচ্ছে না। যেসব জমির গাছ কাটা হচ্ছে তার আশে পাশের জমিতেও গাছের বাগান রয়েছে। ওরা শুধু ফলদ গাছগুলোই কেটে ফেলছে। অথচ ফলদ গাছে কারো কোনো ক্ষতি হয় না।
তবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধুমাত্র এবারই ফারুক ইকবাল থানায় অভিযোগ করেছেন। এর আগে কেউ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেননি।
স্থানীয় ভ্যানচালক জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতি বছরই এই মাঠটির কোনো না কোনো আমবাগান, লিচুবাগান বা থাই পেয়ারাবাগান রাতের আঁধারে কেটে দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। কে বা কারা এই কাজ করছে তা এখনো বোঝা যায়নি।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান বলেন, বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন