ছেলের করোনাভাইরাস গুজবে মায়ের মৃত্যু

আপডেট: 08:14:31 12/02/2020



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রতন রপ্তান ভারতে আত্মীয়বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সোমবার দুপুরে ভারত থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ভোমরা ইমিগ্রেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় জ্বর ও সর্দি-কাশি থাকায় তাকে নেওয়া হয় সদর হাসপাতালে।
এরই মধ্যে রতনের নিজ এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, রতনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। পুলিশ তাকে গুলি করে মেরে ফেলবে। একথা শুনে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন রতনের মা বৃদ্ধা রেনুকা রপ্তান (৫৬)। রাত পৌনে ১২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই সহজ-সরল নারী।
রেনুকা পাতাখালি গ্রামের বিমান রপ্তানের স্ত্রী।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, কিছুদিন আগে ভারতে আত্মীয়বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন রতন। সোমবার ভোমরা হয়ে বাড়িতে ফেরার সময় তিনি সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভুগছিলেন। এই কারণে কর্তৃপক্ষ রতনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রক্ত নেওয়ার পর রতন বাড়ি ফিরে আসেন। পরে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন। শ্যামনগর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যানকেও ফোন করা হয় রতনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে এলাকায় এক শ্রেণির মানুষ গুজব ছড়িয়ে দেয় রতনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। পুলিশ রতনকে গুলি করে মেরে ফেলবে। এসব শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রতনের মা রেনুকা। ওই রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগরের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অজয় সাহা বলেন, ‘করোনাভাইরাস সন্দেহে রতনকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে সে পালিয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়।’
তিনি বলেন, তবে রতনের শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে গুজবের কারণে তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, এমন ঘটনা তার জানা নেই।

আরও পড়ুন