ছেলে খুনের বিচার চেয়ে রাস্তায় মা

আপডেট: 01:17:30 19/02/2021



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে মাদরাসাছাত্র মামুন হাসান (২২) খুনের মাস্টারমাইন্ড সিরাজ, আনিছুর মেম্বর ও ফারুকের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন গ্রামবাসীসহ স্বজনরা।
শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এলাকার কয়েকশ' নারী-পুরুষ ও শিশু সোহবারমোড়-চাঁচড়া সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। নিহত মামুনের মা ছকিনা বেগম, বাবা মশিয়ার রহমান ও বোন লিমা খাতুন মানববন্ধনে অংশ নেন।
ছেলের খুনের বিচারের দাবিসম্বলিত ফেস্টুন হাতে ধরে রাখেন ছকিনা বেগম। তিনি বলেন, 'আমার ছেলেরে ওরা ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। খুনিদের বিচার চাই।'
কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই নারী। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী।
মামুনের বাবা মশিয়ার গাজী বলেন, 'ওইরাতে আনিছুর মেম্বার উপস্থিত থেকে আমার ছেলেরে মারাইছে। মেম্বার বলেছে, সকাল হলি মামুনরে ইটভাটায় জ্বালিয়ে দেবে।'
মামুনের চাচা রোস্তম গাজী বলেন, 'সিরাজ ও আনিছুর মেম্বার আমাদের রক্ত দিয়ে গোসল করানোর হুমকি দিচ্ছে। আমাদের এলাকাছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছে। আমরা মেম্বর আনিছুর, সিরাজ ও ফারুকের ফাঁসি চাই।'
অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ায় মামুনকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন ওই এলাকার সিরাজ, আনিছুর মেম্বর, ফারুক, লাভলু, সোহাগ, আলতাফ ও তাদের সহযোগীরা। মোবাইল ফোন চোর সন্দেহে তাকে প্রায় চার ঘণ্টা নির্যাতন করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান। পরদিন সকালে পুলিশ নিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন মা ছকিনা বেগম। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে মারা যান মামুন।
মামুন হাসান উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মশিয়ার গাজীর ছেলে। তিনি মণিরামপুর আলিয়া মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
নেশার টাকা যোগাড় করতে তিনি এলাকায় ছোটখাট চুরির সাথে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনার রাতে তিনি নিজ গ্রামের আয়নালদের বাড়িতে মোবাইল চুরি করতে ঢুকলে লোকজন তাকে ধরে মারপিট করে।
তবে, মামুনের মায়ের দাবি, তার ছেলের কাছে কোনো চোরাই মালামাল দেখাতে পারেনি নির্যাতনকারীরা। মামুনকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, 'মানববন্ধনের কথা শুনেছি। মামুন হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। আমরা তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। জড়িত বাকিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।'

আরও পড়ুন