জটিল রোগে আক্রান্ত রহমতের ভবিষ্যৎ কী

আপডেট: 03:57:18 26/01/2020



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : মাত্র ছয় বছরের শিশু রহমত। যে বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই এতটুকু বয়সেই জটিল এক রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। যখন পড়ার সাথীদের সঙ্গে খেলা করার কথা, তখন সে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। জন্মের তিন বছর বয়স থেকে তার শরীরে বাসা বেঁধেছে এই রোগ।
প্রথমে শিশুটির মুখমণ্ডল ফুলে ওঠে। এরপর পেট ও পা থেকে শুরু করে সমস্ত শরীর ফুলে ওঠে। সে সময় পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। এরপর চিকিৎসা করালে মোটামুটি সুস্থ হয়ে যায়। চার থেকে পাঁচ মাস পর আবারো দেখা দেয় রোগটি। এভাবে গত তিন বছরে নয় বার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে রহমত।
রহমত কালীগঞ্জ শহরের ঈশ্বরবা এলাকার আজিজুল বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। পরের জমিতে কামলা খাটা এই বাবা ছেলের চিকিৎসা করাতে যা কিছু ছিল সবই বিক্রি করেছেন। আয়ের একমাত্র সম্বল ভ্যান বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসার পেছনে ঢেলেছেন। একে একে ছাগল, স্ত্রীর সোনার চেন, হাতের আংটি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আর বেচার মতো কিছুই নেই। গত পাঁচদিন হলো ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে। এখন ছেলের চিকিৎসার খরচ যোগাতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন দরিদ্র হতভাগা বাবা। ছেলের চিকিৎসার জন্য জনপ্রতিনিধিসহ বহু মানুষের কাছে হাত পেতেছেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। কীভাবে টাকা যোগাড় হবে, তা নিয়ে দিশেহারা আজিজুল।
আজিজুল বিশ্বাস জানান, যখন ছেলের এই রোগ দেখা দেয়, তখন দশ থেকে ২০ দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা করাতে হয়। প্রতিবারই ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, নিয়মিত ওষুধ খেলে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যাবে শিশুটি।
তিনি বলেন, গত তিন বছরে সহায়-সম্বল যা ছিল সবই বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করেছেন। এখন ছেলের জীবন বাঁচাতে মানুষের কাছে হাত পাতা ছাড়া কোনো পথ নেই। তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় এই বাবা।
আজিজুলের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ০১৭১৪৫৩০৬৮৮। বিকাশ নম্বর ০১৭৬৪২৪১৫৬২।