জনপ্রতিনিধির নাম যখন বয়স্ক ভাতার তালিকায়

আপডেট: 10:35:48 27/05/2020



img

দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্তদের তালিকায় নাম উঠেছে দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোক্তারের। যদিও এই তালিকায় নাম উঠানোর যে নীতিমালা, তাতে কোনোভাবেই তিনি অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন না।
নিম্নবিত্ত ও সর্বহারা বয়স্ক মানুষের কল্যাণে ‘বয়স্ক ভাতা’ সেবা চালু রয়েছে। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার নাম বাদ পড়ে তালিকা থেকে। আবার উপযোগী বলে প্রতীয়মাণ হলে নতুন নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত হয় তালিকায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেবহাটা সদর ইউনিয়নের ২০২০-২১ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতাভোগীদের নামের তালিকা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী স্বাক্ষর করে গত ২০ মে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠান। ওই তালিকায় ৪৬ নম্বর ক্রমিকে গোলাম মোক্তার নামে একজনের নাম রয়েছে। যার বাবা মৃত ওয়াহেদ আলী, মা মোমেনা খাতুন, গ্রাম সুশীলগাতী, জন্মতারিখ ০৭/০১/১৯৫৩, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৮৭১২৫১৫০৩৯৯০৫। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তি দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের আট নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গোলাম মোক্তার।
এ বিষয়ে দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী জানান, একজন বয়স্ক ব্যক্তি ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন। যদি তিনি বিধিমালায় না পড়েন, তবে সেই নাম বাদ দেওয়া হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অধীরকুমার গাইন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তালিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যারা নিয়মনীতির বাইরে থাকবেন, তাদের সবাইকে বাদ দেওয়া হবে।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া আফরীন বলেন, ‘একজন ইউপি সদস্য কোনো তালিকায় নিজের নাম দিতে পারবেন না। যদি দিয়ে থাকেন, তাহলে তা সরকারি বিধিমালার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হয়ে এধরনের কাজ দুঃখজনক। এ ইউপি সদস্যের নাম অবশ্যই বাদ দেওয়া হবে।’
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জনপ্রতিনিধি হয়ে যিনি দুস্থদের বঞ্চিত করে নিজের নাম তালিকায় দিতে পারেন, তার দিয়ে জনগণের কী সেবা হবে?- প্রশ্ন স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন