জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চান সাতক্ষীরা শহরবাসী

আপডেট: 10:21:45 29/06/2020



img
img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছেন সাতক্ষীরা পৌরবাসী।
পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথ দখল করে অপরিকল্পিত মাছের ঘের করার কারণে সামান্য বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রয়েছে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, নদী ভরাট।
এ অবস্থা থেকে মুক্তি কামনা করে শহরের ইটাগাছা এলাকার শত শত মানুষ সোমবার বেলা ১১টায় জলাবদ্ধ এলাকায় মানববন্ধন করেছেন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালুর সভাপতিত্বে ও নাগরিক নেতা আলীনূর খান বাবুল মানববন্ধনকালে সমাবেশ পরিচালনা করেন।
ওই সময় আরো বক্তব্য দেন জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি আনিসুর রহিম, নাগরিক নেতা অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, মাধাবচন্দ্র দত্ত, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, পৌর কাউন্সিলর ফারহা দিবা খান সাথী, নারীনেত্রী লায়লা পারভীন সেঁজুতি, আনোয়ার জাহিদ তপন, শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু, অ্যাডভোকেট মুনিরউদ্দিন, অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, মোজাম্মেল হক মোজাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা জলাবদ্ধতায় নাগরিকদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা, কামালনগর, বদ্দিপুর, পুরাতন সাতক্ষীরা, ঘুড্ডির ডাঙ্গি, রসুলপুর, মেহেদিবাগ, বকচরা, সরদারপাড়া, পলাশপোলসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলমগ্ন। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অবৈধ খাল দখল, নদী ভরাটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে পানি অপসারণ ব্যবস্থা। ফলে গত কয়েকদিনের সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
স্থানীয়রা জানান, চারদিকে পানি জমে থাকায় ডেঙ্গু আতঙ্কে আছেন তারা। এছাড়া অনেক কাঁচাঘর ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এ অবস্থা। বক্তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গত বছর ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলার সব নদী-খালের ইজারা বাতিল করেন। একইসঙ্গে পৌর এলাকায় অবৈধ মাছ চাষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণাও দেওয়া হয়। কিন্তু গত একবছরেও সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবারো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৬ জুন সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি ইটাগাছা এলাকায় গিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েকটি মাছের ঘেরের বাঁধ কেটে দেন। এতে দ্রুত পানি কমে যায়। কিন্তু রাতের আঁধারে ঘের মালিকরা আবার সেই বাঁধ দিলে ফের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন