জানাজায় যোগ দিতে হাটহাজারী লোকারণ্য

আপডেট: 01:58:29 19/09/2020



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজা শনিবার দুপুর দুইটায় তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার ফজরের পর থেকেই হাজার হাজার আলেম, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মাদরাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন। কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলাগুলোর বহু কওমি মাদরাসা থেকে বিপুল শিক্ষার্থী ও আলেম জানাজায় অংশ নিতে আসছেন।
ঢাকা থেকে রাত দুইটায় সড়কপথে রওনা হয় আল্লামা শফীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স।
হাটহাজারী মাদরাসার দক্ষিণ গেটে শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ছাত্রদের প্রিয় হুজুরকে দর্শনের জন্য সুযোগ করে দেওয়া হবে। জোহরের নামাজের পর মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল জামেয়ার গোরস্তানে দাফন করা হবে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে।
শুক্রবার রাত সোয়া আটটায় আহমদ শফীর বড় ছেলে ও রাঙ্গুনিয়ার পাখিয়ারটিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ মাদানী বলেন, ‘উনাকে (আহমদ শফী) রাতেই হাটহাজারী মাদরাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। শনিবার বাদ জোহর মাদরাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মাদরাসার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।’  
পরে দাফনের কর্মসূচি জানিয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন আহমদ শফীর ছোট ছেলে আনাস মাদানী। তিনি ও তার পরিবার আহমদ শফীর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে শুক্রবার সন্ধ্যায় আহমদ শফী মারা যান। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘বড় হুজুর সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’
আহমদ শফী বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা ছাড়াও ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে হেফাজতের আমিরকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহমদ শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তাকে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠের পাশে অবস্থিত আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শূরা কমিটির সভায় মাদরাসার মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আল্লামা আহমদ শফী। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও শূরা সভার প্রধান হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছিল।
আল্লামা আহমদ শফী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম বরকত আলী ও মায়ের নাম মেহেরুন্নেছা।
আহমদ শফী ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির নির্বাচিত হন। তিনি ইসলামি শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে দশ বছর বয়সে ভর্তি হন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম  মাদরাসায়। সেখান থেকে হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ১৯৪১ সালে চলে যান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায়। সেখানে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ-এর প্রেসিডেন্ট আল্লামা সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানীর কাছে আধ্যাত্মিক শিক্ষালাভ এবং তার খেলাফতপ্রাপ্ত হন।
১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে দারুল উলুম হাটহাজারীতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৯৮৬ সালে এই মাদরাসার মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব নেন আহমদ শফী। এর পর থেকে টানা ৩৪ বছর তিনি ওই পদে ছিলেন। ২০০৮ সালে আল্লামা আহমদ শফী কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
আল্লামা আহমদ শফি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার লেখা ‘হক্ব ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব’, ‘ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা’, ‘ইসলাম ও রাজনীতি’, ‘হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা’সহ ২২টি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে। তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, দেশ-বিদেশে ৫০ লাখের বেশি মুরিদ ও ভক্ত রয়েছেন আল্লামা আহমদ শফীর।
সূত্র : এনটিভি

আরও পড়ুন