জামাতা হত্যার অভিযোগ শ্বশুর-শাশুড়ি-স্ত্রীর বিরুদ্ধে

আপডেট: 01:02:11 30/10/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকার দাউদ হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন আত্মহত্যা করেননি; তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে আদালতে মামলা করেছেন মা রেবেকা সুলতানা। মামলায় আসামি করা হয়েছে সুমনের শ্বশুর-শাশুড়িসহ সাতজনকে।
আসামিরা হলেন, শহরের খড়কি কলাবাগান এলাকার আলী রেজার ছেলে (সুমনের শ্বশুর) রেজাউল করীম, রেজাউলের স্ত্রী শিরিনা বেগম, ছেলে ঝন্টু ও মন্টু, ঝন্টুর স্ত্রী ডলি বেগম, মন্টুর স্ত্রী শিউলি বেগম এবং সুমনের প্রবাসী স্ত্রী শায়লা শারমিন আশা।
বৃহস্পতিবার আবেদন পাওয়ার পর আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোতয়ালী থানাকে নির্দেশ দেন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, সুমন যশোর শিক্ষা বোর্ডে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করতেন। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে তার সঙ্গে আশার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকদিনের মাথায় পার্লারের কাজের জন্য স্ত্রী আশা দুবাই যেতে ইচ্ছে পোষণ করেন। সুমন আর্থিক সচ্ছলতার বিষয় চিন্তা করে রাজি হন। একপর্যায়ে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে স্ত্রীকে দুবাই পাঠান তিনি। আশা এখনো দুবাইতেই রয়েছেন। দুবাই যাওয়ার পর আসামিরা বিভিন্ন সময় অজুহাত দেখিয়ে তিন চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সুমনের কাছ থেকে। গত মাসে সুমন জানতে পারেন, আশা দুবাইয়ে বাংলাদেশি এক ছেলেকে বিয়ে করেছেন। এই বিষয়ে জানতে চাওয়ায় আসামিদের সঙ্গে সুমনের মনোমালিন্য হয়। এরপর থেকে আসামিরা সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। তারই অংশ হিসেবে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে আসামিরা সুমনকে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। ওই দিন রাতে সুমনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে পরে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়। প্রচার করে, 'সুমন আত্মহত্যা করেছে'।
বাদী আরো উল্লেখ করেন, পরের দিন আসামিদের বাড়িতে গিয়ে তারা লাশ গ্রহণ করেন। এসময় সুমনের গায়ে আঘাতের চিহ্ন, কাটা দাগ, হাত-পা ভাঙা, অণ্ডকোষ গলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। আশা ও তার নতুন স্বামীর প্ররোচনায় অন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুমনকে হত্যা করেছে বলে দাবি মা রেবেকা সুলতানার।

আরও পড়ুন