জীর্ণ স্থাপনায় নেই ডাক্তার, বেহাল উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র

আপডেট: 01:31:32 08/09/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের নেহালপুর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনের দৈন্যদশা দীর্ঘদিনের। জরাজীর্ণ ভবন ছেড়ে পাশের পরিবার পরিকল্পনা ভবনে নামমাত্র কার্যক্রম চলছে প্রতিষ্ঠানটির। শুধু ভবনের বেহাল দশা নয়, এই কেন্দ্রে চিকিৎসক নেই গত পাঁচ বছর। ফলে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।
চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে একজন ডাক্তার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো), একজন ফার্মাসিস্ট, একজন পিয়ন নিয়ে ১৯৯৬-২০০১ রেজিমে গড়ে ওঠে নেহালপুর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। নেহালপুর, কালিবাড়ি, মশিয়াহাটি, মনোহরপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের সেবায় মণিরামপুর সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে নেহালপুর বাজারে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানে ধারাবাহিক চিকিৎসকের দেখা পাননি স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে একজন সেকমো দিয়ে চলেছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এরপর গত ১৪ বছর ধরে একজন ফার্মাসিস্টই ভরসা। তাও তিনি ডিউটি করেন ইচ্ছেমতো। নিয়োগ পেয়ে যেই ডাক্তারই আসেন; থাকেন না বেশিদিন, করেননি নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন।
সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে গিয়ে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি জরাজীর্ণ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাশের পরিবার পরিকল্পনা ভবনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। সেখানে গিয়ে কয়েকজন রোগীর দেখা মিললেও স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির জন্য ব্যবহৃত তিনটি কক্ষের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, একজন ফার্মাসিস্ট রোগী দেখছিলেন। তিনি বাইরে চা পান করতে গেছেন।
পরে কথা হয় ফার্মাসিস্ট সমরেন্দ্র তরফদারের সঙ্গে। কথার ফাঁকে তাকে প্যারাসিটামল, মেট্রো, অ্যান্টাসিড দিয়ে সেবা দিতে দেখা গেছে।
সমরেন্দ্র বলেন, ‘১৪ বছর এখানে আছি। ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডা. মঞ্জুরুল মুরশিদ দায়িত্ব পালন করেছেন। এসএম সাইফুল ইসলাম নামে একজন সেকমো ছিলেন। তিনিও ১৮ সালের ১২ জুন কেন্দ্র ছেড়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত ডা. আশরাফুর রহমান সপ্তাহে দুই-তিন দিন করে এসেছেন। এখন আর আসেন না।’
‘এখানে তিন কক্ষবিশিষ্ট টিন শেডের একটি ভবন আছে। অনেক আগে থেকে তা জরাজীর্ণ। পাঁচ বছর হয় সেটা ছেড়ে আমরা পরিবার পরিকল্পার ভবনে উঠেছি।’
কেউ না থাকায় নিজেই রোগী দেখছেন জানিয়ে সমরেন্দ্র বলেন, ‘২৪-২৫ রকমের ওষুধ থাকে। এখন খাবার স্যালাইনসহ পাঁচ প্রকারের ওষুধ আছে। প্রতিদিন ২০-২৫ জন করে রোগী দেখি। ওষুধ থাকলে ৬০-৬৫ জন করে রোগী আসে।’
নেহালপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, ‘রোগ হলে গ্রাম্য ডাক্তার দেখাই। পাঁচ বছর আগে নতুন ডাক্তার এসেছে শুনে তাকে দেখতে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। এরপর কোনো ডাক্তার আছে কিনা বলতে পারব না। হাসপাতালের ভবনের বেহাল দশা। আশপাশের নোংরা জলাবদ্ধ পরিবেশ।’
জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, নেহালপুর উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার আশরাফুর রহমানের নিয়োগ। করোনাকালীন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এখন তিনি যশোরের সিভিল সার্জন অফিসে ডিউটি করছেন। ওই কেন্দ্রে সেকমোর পোস্টিং নেই। কেন্দ্রটির জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়টি একাধিকবার উপরে জানানো হয়েছে।
এই ব্যাপারে আরো জানতে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন