জুয়া আইনে মামলা হয়নি কারো বিরুদ্ধে

আপডেট: 02:22:57 25/09/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : দেশে জুয়াবিরোধী একটি আইন থাকলেও রাজধানীতে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবের জুয়ার আসর থেকে আটক শতাধিক ব্যক্তির কারো বিরুদ্ধেই ওই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দেশে ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ নামে যে আইনটি রয়েছে সেটি রাজধানীতে প্রয়োগ করার সুযোগ নেই। এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশে ইহা প্রযোজ্য হইবে’।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর ৯২ ধারায় প্রকাশ্যে জুয়া খেলার জন্য মাত্র ১০০ টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
রাজধানীর ক্লাবগুলো থেকে জুয়া এবং ক্যাসিনোর বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা বলছেন, ‘দুর্বল’ আইনের কারণেই আটকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা জুয়াবিরোধী আইন যুগোপযোগী করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে প্রথম অভিযান চালায় র‌্যাব। এখানে জুয়া-ক্যাসিনো চালানোয় ক্লাবের কর্ণধার যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে তার গুলশানের বাসা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়।
ওইদিন মতিঝিলে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবেও অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে জুয়া-ক্যাসিনোর বিপুল সরঞ্জাম, টাকা জব্দের পাশাপাশি ১৪২ জনকে আটক করা হয়।
যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রাপাচার আইনে মামলা হয়েছে। এছাড়া আটক অন্যদের ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মাদক রাখা ও সেবনের অভিযোগে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ে পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, “আইনি যে প্রক্রিয়া, সেটা নেওয়া হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ম্যাজিস্ট্রেট ক্লাবগুলো সিলগালা করে দিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলছে।”
ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ অনুযায়ী আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন নেওয়া হলো না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র্যাাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।”
কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গত রোববার পুলিশ মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া, আরামবাগ এবং দিলকুশা ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জুয়ার সামগ্রী জব্দ করে। একটি ক্লাবে মদ এবং এক লাখ টাকাও পাওয়া যায়। এসব ক্লাব থেকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাই কারো বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি।
মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাউকে না পাওয়া গেলেও জুয়া-ক্যাসিনোর সামগ্রী মালামাল পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়েছি। ক্লাবগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
“জব্দ করা মালামাল ধ্বংস করতে এবং টাকা কোথায় জমা দেওয়া হবে সে ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আমরা এখনো এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা পাইনি।”
তিনি জানান, তার থানা এলাকায় র‌্যাব যে অভিযান চালিয়েছে, সেখানে জুয়া আইনে কোনো মামলা না হলেও মাদক এবং মানি লন্ডারিং আইনে একাধিক মামলা হয়েছে। ক্যাসিনো বা জুয়ার সরঞ্জাম জব্দ করার বিষয়ে থানায় র‌্যাব কোনো তথ্য দেয়নি বলেও জানান তিনি।
তবে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ঘটনায় করা মামলার বাদী র‌্যাব-৩-এর ওয়ারেন্ট অফিসার ফিরোজ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ওই ক্লাব থেকে তারা জুয়ার কোনো সরঞ্জাম জব্দ করেননি। কিন্তু ক্লাব সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ৯২ ধারায় যে জরিমানার কথা বলা হয়েছে তা খুবই নগন্য। এই ধারায় আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তারা দ্রুত আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে যাবে। আইনের মধ্যে রেখেই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি চিন্তা করেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অধ্যাদেশের দুর্বলতার কথা পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদও বলেছেন।
তিনি বলেন, “ঢাকা মহানগর পুলিশ ট্রাফিক আইনে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে সময়োপযোগী করেছে। জুয়া বা বাজির ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশে যে ধারা আছে সেটাও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।
ঢাকার একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাও বলেছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ৯২ ধারাটি খুবই দুর্বল, একে আরো কঠোর করা প্রয়োজন।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন