জোর করে চেকে স্বাক্ষর, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

আপডেট: 07:14:33 19/07/2020



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের মহেশপুরে জোরপূর্বক চেক স্বাক্ষর করে নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রতিবন্ধীদের একটি স্কুলের সভাপতি।
মামলা করার পর নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন ওই স্কুলের সভাপতি মাওলানা মোস্তফা কামাল। তিনি উপজেলার কুশাডাঙ্গা প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি।
মাওলানা মোস্তফা কামাল জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়। শুরুতে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এর যাত্রা। বর্তমানে সেখানে ১০০ জন কার্ডধারী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে। সম্প্রতি স্কুলের প্রয়োজনে এই আসনের সংসদ সদস্যের একটি ডিও লেটার দরকার পড়ে। সে জন্য স্থানীয় স্বরুপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের কাছে যাওয়া হয়। ওই সময় তিনি ডিও লেটার ইস্যু বাবদ মোটা টাকা দাবি করেন। পরে তিনি নিজেই সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চলের কাছ থেকে বিনা টাকায় একটি ডিও লেটার নিয়ে আসেন। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠান ও তার সভাপতি ওই চেয়ার‌্যানের রোষানলে আছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন রাত নয়টার সময় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তার পরিষদে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক পাঁচ লাখ টাকার তিনটি চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এরপর তিনি ৩০ জুন চেক উদ্ধারের জন্য ঝিনাইদহ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলা নম্বর ২৮১/২০২০।
‘মামলার পর আমাকে মিথ্যা মামলা, বাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং জীবননাশসহ মিডিয়ার মাধ্যমে হেয় প্রতিপন্নসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। স্বরুপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের দ্বারা আমি ও আমার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি- এমন আশঙ্কায় ঝিনাইদহ ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে ৫ জুলাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ৭ ধারায় একটি মামলা করেছি।’
আবু বকর নামে ওই স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘চেয়ারম্যান বা আমরা কেউ সভাপতির কাছ থেকে চেক জোর করে স্বাক্ষর করে নিইনি। চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের মধ্যস্থতায় সভাপতি মোস্তফা কামাল নিজ ইচ্ছায় আমাদের পাঁচ লাখ টাকার তিনটি চেক স্বাক্ষর করে দেন। এই টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাংকের হিসাবে টাকা না থাকায় চেক ডিজঅনার করে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে।’
অভিযুক্ত স্বরুপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, ‘চেক আমি জোর করে নিইনি। স্কুলের সভাপতি চাকরি দেওয়ার নাম করে ২২ জনের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা নিয়েছিল। তার মধ্যে পাঁচ লাখ টাকার তিনটি চেক তিন শিক্ষককে দেন। চেকে টাকা না থাকায় তারা ইতিমধ্যে ডিজঅনার করে উকিল নোটিস পাঠিয়েছে। কিন্তু সভাপতি প্রকৃত সত্য আড়াল করতেই আমার নামে মামলা করেছে।’

আরও পড়ুন