ঝিনাইদহে তারের জঞ্জাল, বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি

আপডেট: 02:52:43 31/10/2020



img
img

তারেক মাহমুদ, (কালীগঞ্জ) ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিদ্যুতের তারে ক্রমেই বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।
জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমী, গীতাঞ্জলি সড়ক, পায়রা চত্বর, ব্যাপারিপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ পিলারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য তার। বোঝার উপায় নেই কোন সংযোগ কোথায় গেছে। বৈদ্যুতিক তারের পাশাপাশি এসব স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ইন্টারনেট ও কেবল লাইনের তার।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, এসব কারণে শহরেই চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পিলার, ট্রান্সফরমার ও বাসাবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৪৭টি। বছরের শুরুর দিকে ট্রান্সফরমার থেকে শর্ট সার্কিটে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আগুন লাগে।
জেলা শহরের অন্যতম ব্যবসায়ীক কেন্দ্র গীতাঞ্জলি সড়ক। এটি সোনার ব্যবসার কেন্দ্র, রয়েছে অনেক বাসাবাড়ি। এখানেই একটি পিলার থেকে নেওয়া হয়েছে শতাধিক বিদ্যুৎ সংযোগ। জড়িয়ে আছে ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের তারও। শিল্পকলা একাডেমী-সংলগ্ন ট্রান্সফরমারের চিত্রও একই।
এই সড়কের একজন স্বর্ণকার পঞ্চরেশ পোদ্দার বলেন, ‘আমরা খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। পিলারের তারগুলো যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে শহরের প্রতিটা জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।’
ওই এলাকার ব্যবসায়ী এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, তারা বার বার বিদ্যুৎ বিভাগকে (ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড- ওজোপাডিকো) জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা ঠিকমতো মেইনটেনেন্সও করে না। এই গীতাঞ্জলি সড়কে আগুন লাগলে শহরের একাংশ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার সুমন আলী বলেন, ‘এবছর বৈদ্যুতিক কারণে শহরে আগুন লাগার ঘটনা বেশি। নেভাতে গিয়ে দেখি সংযোগস্থলে অপরিকল্পিত তারের কারণেই বেশিরভাগ আগুনের সূত্রপাত। এই সংযোগগুলো যদি নিরাপদ করা যেত এবং পিলার বা ট্রান্সফরমার সংরক্ষিত রাখা যেত তাহলে আগুন লাগার হার একবারেই কমে যেত।’
এ ব্যাপারে ওজোপাডিকো ঝিনাইদহের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পরিতোষচন্দ্র সরকার বলেন, ‘এসব তার মেইনটেনেন্সের দায়িত্ব আমাদের না। পাবলিক সংযোগ নিয়েছে, আর সেটা সংরক্ষণের দায়িত্বও তাদের।’

আরও পড়ুন