ঝিনাইদহে লু হাওয়ায় পুড়েছে ১১৭ হেক্টর জমির ধান

আপডেট: 10:05:25 08/04/2021



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : তাপদাহে বয়ে যাওয়া লু হাওয়া বা গরম বাতাসে ঝিনাইদহে ইরি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই গরম হাওয়ায় সবেমাত্র শীষ বের হওয়া দুধভরা ধান শুকিয়ে হলুদ বর্ণ ধারণ করে পুড়ে যাচ্ছে। গরম বাতাসের কারণে এ পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় ১১৭ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া এবারের ধানে চিটা বেশি হবে এবং ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জেলার ছয় উপজেলায় ধান রোপণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৪০ হেক্টর। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিন পরেই এসব জমির ধান কাটা শুরু হবে। এরই মধ্যে গত ৪ এপ্রিল বিকেলে হঠাৎ ঝিনাইদহসহ আশেপাশের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে কালবৈশাখি ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের আগে পরে বৃষ্টি না হলেও গরম হাওয়া বইতে থাকে। তাপদাহ ও ঝড়ে প্রায় ১১৭ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হওয়ার জমির মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আট হেক্টর, কালীগঞ্জে দশ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে আট হেক্টর, মহেশপুরে ৩০ হেক্টর, শৈলকুপায় ১৩ ও হরিণাকুন্ডু উপজেলা ৪৮ হেক্টর জমি রয়েছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলায়। গরম হাওয়ায় ধান নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষকের মুখের হাসি হারিয়ে যেতে বসেছে।
জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের কৃষক ও স্কুলশিক্ষক শফিকুর রহমান জানান, গত ৪ এপ্রিল বিকেলে এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে কালবৈশাখি ঝড় বয়ে যায়। সাথে প্রচণ্ড ধুলি আর গরম হওয়া বইতে থাকে। বৃষ্টি না হওয়ায় চলছে টানা তাপদাহ। ঝড়ের দুই দিন পর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কিছু কিছু জমিতে সবুজের পরিবর্তে ধানের শীষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। ফলে এবার ধানের ফলন কম হবে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘চলতি ইরি বোরো মৌসুমে আমার ১৩ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। গত কয়েকদিনে এমনিতে এ অঞ্চলের প্রচণ্ড তাপদাহ চলছে। এরমধ্যে গত কয়েকদিন আগে কালবৈশাখি ঝড় বয়ে যায। ঝড়ে দুই দিন পর মাঠে গিয়ে দেখি যেসব জমির ধানে দুধভাত ছিল সে সব ধানের শীষে সাদা ও হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। ফলে ফলনে কিছুটা কম হতে পারে ধারণা করছি।’
মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি ইরি মৌসুমে মাঠে ৩০ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। সম্প্রতি গরম হাওয়া আর কালবৈশাখি ঝড়ে প্রতিটা জমির জাগায় জাগায় ধান সাদা বর্ণ হয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঝড়ের পরেই এই চিটার পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে।’
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা মাঠে গিয়ে ধানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি। এটা ধানের কোনো রোগ না; প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা যায়। তবে ঝড়ের আগে গরম দমকা হওয়ায় পুড়ে যাওয়া ধানের জমিতে এক ইঞ্চি পরিমাণ পানি বেঁধে পটাসিয়াম দিতে হবে।’

আরও পড়ুন