ঝিনাইদহ মুক্ত হয়েছিল ৬ ডিসেম্বর

আপডেট: 05:58:42 05/12/2019



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীমুক্ত হয় ঝিনাইদহ। এই দিনে ঝিনাইদহের মাটিতে স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা ওঠে। প্রতিরোধ, আক্রমণ, সম্মুখযুদ্ধ সবশেষে বিজয় অর্জন সব ক্ষেত্রেই ঝিনাইদহবাসীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাধীনতা যুদ্ধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল ঝিনাইদহের বিষয়খালীতে। এছাড়াও শৈলকুপা থানা আক্রমণ, কামান্না, আবাইপুর ও আলফাপুরের যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য।
১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল যশোর ক্যান্টেনমেন্ট থেকে ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ঝিনাইদহ দখলের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসতে থাকে। বিষয়খালী ব্রিজের ওপর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বাধা দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধেও পর পাক বাহিনী পিছু হটে।
এরপর ১৬ এপ্রিল হানাদার বাহিনীর আবার বিষয়খালীতে বেগবতী নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে। সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা তুমুল যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ৩৫ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ব্রিজের পাশেই গণকবর দেওয়া হয়। এরপর জেলায় ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ।
৬ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ মহকুমা (বর্তমানে জেলা) শহর শত্রুমুক্ত হয়। এর আগে ৩ ডিসেম্বর মহেশপুর, ৪ ডিসেম্বর কোটচাঁদপুর, ৫ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ এবং সর্বশেষ ১১ ডিসেম্বর শৈলকুপা শত্রুমুক্ত হয়।
মুুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই জেলায় খেতাবপ্রাপ্ত দুইজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এরা হলেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান ও বীরপ্রতীক সিরাজুল ইসলাম। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের অনেককে বিভিন্ন স্থানে গণকবর দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের নাম ও ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন