ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর দিয়ে হাজারো মানুষের চলাচল

আপডেট: 02:54:03 24/07/2020



img

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরার তালা আর খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী কাটিপাড়ার সংযোগ সড়কের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষের একটি শাখা নদী। এর ওপর দিয়ে মানুষের চলাচলের জন্য রয়েছে একটি কাঠের সাঁকো।
কিন্তু সাঁকোটি খুবই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে দুই জনপদের বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শালিখা ও পাইকগাছার কাটিপাড়ার মধ্যে সংযোগের জন্য নদীর ওপর নির্মিত সাঁকোটি জীর্ণদশায় পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হচ্ছেন হাজারো মানুষ; পার করছেন সাইকেল, ভ্যান, ইঞ্জিন ভ্যান ও মোটরসাইকেল।
এই সাঁকোটি ব্যবহার করে শালিখা-কাটিপাড়া খেশরা, জালালপুর ও মাগুরা ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ কাঁটিপাড়া বাজার, বাঁকা বাজার, পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি উপজেলা ও সাতক্ষীরা জেলা শহরে যাতায়াত করে থাকেন।
স্থানীয়রা বলছেন, তালা উপজেলার খেশরা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদ গত শতকের নব্বইয়ের দশকে ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হয়। ১৯৯৮ সালে খেশরা ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান এমএম ফজলুল হক ও রাডুলী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগে এখানে একটি সাঁকো তৈরি করা হয়। জনসাধারনের চলাচলের সুবিধার জন্য পাকা রাস্তাও নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে পাখিমারা টিআরএম ও কপোতাক্ষ পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় এই নদীটি খনন করার সময় রাস্তাটি ভেঙে ফেলা হয়। তখন থেকে জনগণের দুর্ভোগ শুরু। উপায়ন্তর না পেয়ে স্থানীয় জনগণ খেশরা ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান এসএম লিয়াকত হোসেন ও খেশরা পুলিশ ক্যাম্প ইনচাজের্র সমন্বয়ে একটি ‘ঘাট কমিটি’ গড়ে নিজেদের অর্থায়নে সেখানে সাঁকোটি তৈরি করেন।
শিক্ষক সরদার আব্দুল ওয়াদুদ, ইজিবাইক চালক বাপ্পী গাজী, রেজাউল সানাসহ কয়েকজন পথচারী বলেন, ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে খুব অসুবিধা হয়। কাটিপাড়া ও বাঁকা বাজার থেকে জিনিসপত্র আনতেও ঝামেলা হয়। এছাড়া অসুস্থ রোগীকে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিতে গেলে সাঁকোর অপর প্রান্ত পর্যন্ত ভ্যানে করে নিয়ে যেতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স পার হতে পারে না।
বিধানকুমার দাশ, কল্যাণ রায়, আবু তালেবসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রায়দিন এই কাঠের সাঁকোর ওপর দিয়ে তাদেরকে মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয়। সাঁকোর এপার থেকে ভ্যান আনলোড করে পানের ডালি, ধানের বস্তাসহ বিভিন্ন মালামাল মাথায় করে নিয়ে ওপারে গিয়ে আবার ভ্যানে তুলতে হয়। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি খরচ বেড়ে যায়।
তালার খেশরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম লিয়াকত হোসেন বলেন, সেতু নির্মিত না হওয়ায় প্রতিদিন দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক রাজিব হোসেন রাজু বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি দল স্থানটিতে কয়েকবার মাপের কাজ সম্পন্ন করেছে। এছাড়া এখানকার মাটি পরীক্ষা করা হলেও সেতু নির্মাণে তেমন কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
তালা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ মোল্যা বলেন, শালিখা-কাটিপাড়া সড়ক-সংলগ্ন সেতুটি নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে সেটা বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন