টাকা আত্মসাতে বোর্ড চেয়ারম্যান জড়িত!

আপডেট: 12:11:25 09/10/2021



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক: চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষাবোর্ডের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে নামসর্বস্ব দুটি প্রতিষ্ঠানকে।
এর একটি হলো শিক্ষাবোর্ড অফিসের পাশে শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার মোবাইল ফোন লোডের দোকান ‘শাহীলাল স্টোর’ এবং ‘ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’।  
বোর্ডের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দাবি, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেনের ছত্রছায়ায় বোর্ডের দুই কর্মচারী এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।  
অবশ্য, অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তদন্ত কমিটি করা হয়েছে; এতে জড়িতরা শনাক্ত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি কোষাগারে জমার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ দশ হাজার ৩৬ টাকার নয়টি চেক ইস্যু করে চলতি অর্থবছরে। এ নয়টি চেক জালিয়াতি করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নামে এক কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার দশ টাকা এবং শাহীলাল স্টোরের নামে ৬১ লাখ ৩২ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ শাহীলাল স্টোর ও ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। বোর্ডের অদূরেই শেখহাটি জামরুলতলা বাজারে অবস্থিত শাহীলাল স্টোর মূলত একটি ফটোস্ট্যাট কাম মোবাইল ও গ্যাস বিক্রি প্রতিষ্ঠান। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। দোকানের সাইনবোর্ডে থাকা মালিক আশরাফুলের মোবাইল ফোন নাম্বারে রিং করা হয়। কিন্তু সেই নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবুর যশোর রাজারহাট এলাকায় বাসভবনের সাথে রয়েছে একটি প্রিন্টিং প্রেস। এ প্রতিষ্ঠানটির নাম দেশ প্রিন্টার্স। তবে, সাইনবোর্ডে মোবাইল নম্বর রয়েছে বাবুর।
তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েকবার রিং করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অবশ্য, আজ সকালে যশোরের একজন সাংবাদিককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন ও হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম চেয়ারম্যানের নাম করে তার কাছ থেকে প্যাড, সিল ও চেক নিয়ে এ অর্থ উত্তোলন করেছেন। তিনি ব্যবহার হয়েছেন মাত্র।
এদিকে, যশোর শিক্ষাবোর্ড অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু দাবি করেছেন, এ দুর্নীতির সাথে হিসাব বিভাগের লোকজনের সাথে চেয়ারম্যানও জড়িত। সুষ্ঠু তদন্ত করলে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। তিনি চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে সৎ ও যোগ্য একজন চেয়ারম্যানকে পদাযন করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি দাবি করেন।
শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, ‘আমিসহ বোর্ডের কারোরই এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। কেননা বছর শেষে আমরা প্রত্যেক মুড়িবইয়ের সাথে চেকের হিসেব মিলিয়ে দেখি।’ ‘আমরা জড়িত থাকলে কি এসব যাচাই-বাছাই করতাম?’- উল্টো প্রশ্ন করেন তিনি।  
তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্তেই বিষয়টি ধরা পড়েছে। আর আমি প্রোপার চ্যানেলে স্বাক্ষর হয়ে আসা চেকে সর্বশেষ স্বাক্ষর করেছি। কজের চাপে অনেক সময় চেক পরীক্ষা করা হয় না।’
তিনি আরও বলেন, তদন্তে জড়িতরা শনাক্ত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
টাকা আত্মসাতের ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে তাদের রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন