টাক মিলনকে সাতদিনের হেফাজতে চায় পুলিশ

আপডেট: 06:39:56 14/01/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী যুবলীগ যশোর জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনকে (৪৭) আদালতে সোপর্দ করে সাতদিনের হেফাজতে চেয়েছে পুলিশ। তবে এদিন আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী রোববার রিমান্ড শুনানি হবে বলে আদালত সিদ্ধান্ত দেন।
গত রোববার (১৩ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভিবাসন পুলিশ মিলনকে গ্রেফতার করে। সপরিবারে দুবাই থেকে ফিরে বিমানবন্দরে পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। পরিবার-সদস্যদের ছেড়ে দিলেও মিলনকে ছাড়েনি অভিবাসন পুলিশ। পরে তাকে যশোর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরদিন সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা থেকে যশোরে আনা হয়। আজ মঙ্গলবার তাকে আদালতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের পুলিশ হেফাজতও (রিমান্ড) চাওয়া হয়।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ সুবর্ণভূমিকে জানান, আজ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে মিলনকে হাজির করে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের আরজি জানানো হয়। আদালত আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য করে মিলনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, জাহিদ হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে অন্তত দশটি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে তিনটি মামলায় তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জাহিদ হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে আদালতের তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের তথ্য পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে ছিল। তিনি দুবাই থাকেন এবং প্রায়ই দেশে আসেন- পুলিশের কাছে এমন তথ্য ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিবাসন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। দুবাই থেকে ফেরার পথে অভিবাসন পুলিশ টাক মিলনকে গ্রেফতার করে আমাদের অবহিত করে। ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর এনে ডিবি পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।’
মিলন ওরফে টাক মিলন যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিধুভূষণ রোড এলাকার শেখ রোস্তম আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে কাজীপাড়া কাঁঠালতলা এলাকায় বসবাস করেন।
ওই এলাকার লোকজন জানান, লেখাপড়া তেমন হয়নি মিলনের। কৈশোরে ছোট্ট একটি মুদি দোকান চালাতেন তিনি। পরে তিনি দোকান বন্ধ করে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। সেখান থেকে টাকা কামিয়ে দেশে ফিরে মিলন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক পদও বাগিয়ে নেন কিছুদিনের মধ্যে।
রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে মিলন জড়িয়ে পড়েন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করে নেতৃত্বে থাকেন তিনি। যুবলীগের অর্থ সম্পাদক ফিরোজ আলমকে হত্যাচেষ্টার মধ্যে দিয়ে প্রথম লাইমলাইটে আসেন। গুরুতর জখম ফিরোজ দীর্ঘদিন ঢাকায় চিকিৎসা শেষে খানিকটা সুস্থ হন।
মিলনের বিরুদ্ধে কাজীপাড়া মানিকতলা এলাকায় যুবলীগ কর্মী সোহাগ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের মতে, এই হত্যাকাণ্ডে হিংস্রপ্রকৃতির মিলন মাস্টারমাইন্ড।
এছাড়া চাঁদাবাজি, লোকজনকে হুমকি-ধামকি, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্রবাজির অনেক অভিযোগ মিলনের বিরুদ্ধে। রয়েছে পালবাড়ির একটি কমিউনিটি সেন্টারে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগও। ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হলে মিলন আত্মগোপনে যান। তখন থেকে তিনি দিনেরবেলা প্রকাশ্যে আসতেন না। আত্মরক্ষার্থে প্রায়ই দেশের বাইরে কাটাতেন অল্পদিনে কোটিপতি বনে যাওয়া মিলন। তার হেফাজতে অনেকগুলো আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে একই দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিমত।
এদিকে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাঠানো ফর্দে মিলনের বিরুদ্ধে বহু মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলে দেখা যায়। পুলিশ বলছে, মানিকতলার সোহাগ হত্যা মামলার আসামি (২৯.০৯.২০১৮) মিলন। সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাসভবনে বোমা নিক্ষেপের ঘটনারও (২৬.০১.২০১৯) অন্যতম হোতা তিনি।
পুলিশের হিসেবে, গ্রেফতার মিলন তিনটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত। আরো দশটি মামলার আসামি তিনি।
পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যমতে, মিলন যশোর জেলায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ইজিবাইক, বাড়ি, ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়, ভূমি দখল, সন্ত্রাস, গুপ্ত হত্যার মতো কাজে জড়িত।
সোহাগ হত্যা ও নানাবিধ অপরাধবিষয়ে তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া দরকার বলে আদালতে আরজি জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন