তরমুজের ফলন ও দামে খুশি পাইকগাছার চাষিরা

আপডেট: 07:17:17 19/05/2020



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, (পাইকগাছা) খুলনা : পাইকগাছার লবণাক্ত জমির সুমিষ্ট তরমুজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে শতাধিক ট্রাক-কার্গো করে বিভিন্ন জেলায় তরমুজ সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা খুবই খুশি।
পাইকগাছা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার ৫১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেলুটিতে ৪৫০ হেক্টর ও গড়ইখালীতে ৬০ হেক্টর জমি রয়েছে। পাইকগাছা থেকে যশোর, মাদারীপুর, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় তরমুজ যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষেত বিঘাপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা দরে কিনে তাদের লোক দিয়ে ক্ষেত পরিচর্যা ও ট্রাক-কার্গো করে তরমুজ নিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম তরমুজ আবাদ করা হয়। এসব ক্ষেতের তরমুজ শেষ হতে চলেছ। তবে আবহাওয়ার কারণে এ এলাকায় নাবিতে তরমুজের আবাদ হয়। সেই হিসেবে পাইকগাছায় এখন তরমুজের ভরা মৌসুম । মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়াতে তরমুজ বড় হয়েছে। রঙ ছাড়াও মিষ্টতাও বেড়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার ফলে ক্ষেতের কী পরিমাণ ক্ষতি হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
দেলুটির তরমুজচাষি লোচন মণ্ডল বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে কী হয়- এমন আশঙ্কা নিয়েও আবাদ শুরু করি। তরমুজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তাছাড়া বাইরের ব্যবসায়ীর এসে ক্ষেত কিনে নেওয়ায় লাভ হয়েছে। যে দাম পেয়েছি, তাতে আমি খুব খুশি।’
পুষ্টিবিদদের মতে, গরমে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া শরীরকে চাঙ্গা করতে তরমুজের জুড়ি নেই। রসে টইটম্বুর তরমুজ কেবল আমাদের প্রশান্তিই দেয় না, স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। বাজারে গেলেই চোখে পড়ছে গ্রীষ্মের এই রসালো ফল। তরমুজ সবাই পছন্দ করে। তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। ফলে এই গরমে ডিহাইড্রেশন দূর করতে তরমুজের বিকল্প নেই। তরমুজের রসে ভিটামিন এ, সি, ই, বি-৬, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি থাকলেও ক্যালোরির মাত্রা কম। ফলে তরমুজ থেকে ওজন বেড়ে যাওয়ার চিন্তা নেই। এজন্য তরমুজ সবার প্রিয় ফল।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। চাষিরা বাইরের বাজার ধরতে পেরে উচ্চমূল্যে তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। করোনাভাইরাস দুর্যোগের মধ্যেও কৃষি অফিস থেকে চাষিদের পরামর্শসহ তরমুজক্ষেত তদারকি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন