তহীদ মনির পাঁচটি কবিতা

আপডেট: 07:31:01 19/06/2020



img

উত্তর খোঁজার মেলায় আটকে আছে প্রশ্নের পাহাড়

তবে কি সব আলো বাঁধা পাবে দেয়ালে? সব সত্য
থাকবে লুকিয়ে রাতের গহ্বরে? অন্ধকারের তলদেশে?
মাছ কি বাঁচে জল ছাড়া? জীবন কি টেকে স্বপ্ন ছাড়া?
এগিয়ে যাওয়ার সব পথ যদি ঘেরা থাকে জমাট পাথরে
গুহাবাসই কি শেষ পরিণাম? শূন্য হাতেই
কি ফিরে যেতে হবে এতটা হেঁটে এসে?
হায় অনিবার্য মৃত্যু! তোমাকে গ্রহণ করার আগে
এতকাল যে মরে থাকার কে নেবে তার দায়?
কোনোই কি মানে নেই এই সব দিনরাত্রির?
সবই কি সত্যি থাকবে নষ্টদের নিয়ন্ত্রণে? অথবা
সম্মোহিত হবে সবাই অসৎ পথে? মেলে না উত্তর
বুকে হেঁটে একটুকরো স্নিগ্ধ আলোর জন্যে প্রার্থনা কত?
জমাট বাঁধা নিশ্বাস তবু ভ্রুকুটি করে অবিরত।
কচি কচি স্বপ্নগুলো দোলে হৃদয়ের বাগানে অথচ
সাইমুম ঢেকে দ্যায়, চাঁপা দ্যায় বালিয়াড়িতে।
এতকথা এত নীতি- এত স্লোগান সব অনর্থক হয় প্রমাণিত
যদিও এমনটি হওয়ার কথা ছিল না কোনো কালে।



নীরবতার কাব্য

একা হয়ে যেতে হয়- একা হয়ে যায়।
সবার সাথে থেকেও এক সময়
একা হয়ে যায় কেউ কেউ
চিরকালীন বিচ্ছিন্নতায়।
এই যে ফুলে ফলে সজ্জিত বৃক্ষ
সেও পত্রহীন শুষ্ক হয়
যেমনটি হয় মরুভূমি........
নদীদের কঙ্কালে লুকায় ইতিহাস
ভগ্নাংশ বৃত্ত অক্ষের সন্ধানে লুব্ধক দ্রাঘিমায়
কাটায় প্রহর......
হায় অলৌকিক তারারা!
অন্ধকারের পাদপৃষ্ঠে লিখে নিজের ঠিকানা
অকারণ অনুভবে বাঁধো সুখের আয়েশ!
যদি জানতে, নগরীর ইটপাথরের ফাঁকে ফাঁকে
মায়াবতী গ্রামীণ সভ্যতা...
তৃণদের অবক্ষয়ের ছবি আঁকি হিমবাহে
মেরুতে মেরুতে কত সৌহার্দ তবুও
একাকিত্বের যন্ত্রণায় কাটে নির্ঘুমরাত,,
এভাবে যেতে যেতে একা হয়ে যায় কেউ কেউ
কেউ কেউ হারায় ছায়া...
শুধু বাতাসে বাতাসে রয়ে যায় নাম
আক্ষরিক অর্থে অনন্তকাল অথবা নিমেষমাত্র!



প্রতিদিন প্রতিকারহীন অন্ধকার গ্রাস করছে সব আলো

সিথান জুড়ে জেঁকে বসে আছে যৌবতী রাত
অপেক্ষার ক্লান্তিহীন এক শ্যেনদৃষ্টি যেনো উদ্ভ্রান্ত শয্যায়,
অজস্র জীবন মাথা খোঁড়ে নিরুদ্দেশ অন্ধকারে
তবু নির্বিকার এই প্রশস্তি খাদক মরুভূমির গাঢ় আহ্বানে।
সময়ের সমান্তরালে চলছে দুর্দশার চাষবাস প্রতিক্ষণ
আলোক অভিযাত্রীরা ভুল ঠিকানায় করছে আনাগোনা,
এখন নদীরা মাতম করে না কোনো সমাজবদ্ধতার দাবিতে
জীর্ণতার দায়ে উন্মত্ত হয় না প্রতিঘাতের আকাঙ্ক্ষায়।
ঝড়ো বিকেলগুলি রাত্রি আনে, শুধুই নির্বিচারভরা রাত্রি
অনাহূত মৃত্যুর মিছিলে বাড়ছে ঋণের বোঝা প্রতিকারহীন।



কপালে পরানো বৃষ্টির টিপ

বৃষ্টির টিপ পরাবে বলে কপালে রেখেছো মেঘ
আয়না গভীর অন্তরে তাই প্রজাপতির ওড়াউড়ি,
আমিও রাতের দেউড়ি ছেড়ে খুলেছি হৃদয়জমিন
স্রোতহীন যতো নদীর দুয়ারে ডেকেছে নতুন বান।
মেঘশাড়ি আজ অঙ্গে জড়ানো শ্রাবণ রাঙানো দিনে
লু হাওয়া ঢাকা বাতাসচারীরা দেওয়াল লিখন মুছে
স্রোতের জলে ডুব দিয়ে খোঁজে নিজেকেই উপকূলে।
লুকানো আঁধারে ছায়াসঙ্গী তাই খোঁপায় সাজানো বাঁজ
রৌদ্রঝলসানো জলপবর্ত ঠিকই অক্টোপাশে গেঁথে
নিটোল রাত্রিতে মুক্তোর চাষ আজকেই অনায়াসে।



গল্পগুলি এক ভিন্ন সভ্যতার ইতিহাস

অঙ্কুরোদ্গম ! নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে নতুন পাতা ও শাখা
কি দ্রুত বড় হওয়ার দিন খেলা করে কোষে।
স্রোতে গা ভাসিয়ে চলা কত তা সহজ কারো কারো
অথবা জলাশয়ে ঢেউদোলা শাপলা দিন ...
অথচ সব কিছু উপেক্ষিত অমরত্বের আমন্ত্রণে।
তোমার বুকে ঘুমিয়ে থাকে উত্তাল সাগর
জলোচ্ছ্বাসের আশ্বাসে...
ঝড়ো হাওয়ার কাল গুনতে গুনতে সত্যি বিপর্যয় ঘটে
প্লাবনে প্লাবনে।
সৃষ্টি ও বিদ্রোহের গল্প মিশে আছে তোমার নামের গন্ধে
অসম্ভব বৈরিতার সহাবস্থানে...
দেশান্তর... ধর্মান্তর... রাজপথ... ফুটপাথ... গলিপথ...
কত পটপরিবর্তনের পথস্রষ্টা সৃষ্টির নেশায়।
জীবনকে নিয়ে ছেনে চটকে খেললে ইচ্ছে মতো
জীবন তো হেরে গেলো জিতে গেলে তুমি...
স্মৃতি জন্মভুমি, মাতা, নদী ও নাড়ির টানের গল্প
শ্রাবণে প্লাবনেও জাগে নতুন সম্ভাবনার চর
শ্রম ক্লান্ত কৃষক সোনালি ফসল তোলে ঘরে।
অবশ্য গীতা বাইবেল বেদ গায় নাই প্রশস্তি গীত
মানুষ কেঁদেছিল মানুষ কাঁদছে সংক্রামক ব্যাধির মতো
এক থেকে বহুজনে...
নষ্ট অক্ষর থেকে মুছে গেছে নাম
বুকের পাঁজরে পাঁজরে লেখা হয়ে গেছে
সভ্যতা মানবতা শৃঙ্খলমুক্তির জয়গান
অসম্ভব সম্ভাবনার স্বর্ণালী পথের ঠিকানা।