দামুড়হুদা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

আপডেট: 02:40:44 18/10/2020



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফের গুলিতে ওমিদুল ইসলাম (২৭)  নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
রোববার ভোর সোয়া চারটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার ঠাকুরপুর সীমান্তের বিপরীতে তাকে ভারতীয় অংশে এই ঘটনা ঘটে। ভারত সীমান্তের ভেতর পড়ায় লাশটি ফেরত চেয়েছে বিজিবি।
নিহত ওমিদুল ইসলাম (২৭) উপজেলার ঠাকুরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানান, ওমিদুল ইসলামকে সীমান্তের ৮৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতীয় অংশে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে। লাশ এখনো ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে আছে। বিজিবি এ ঘটনার তদন্ত দাবি করে লাশ ফেরত চেয়েছে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলছেন, বিএসএফ দাবি করছে, ওই যুবক গরু আনতে ভারতে গিয়েছিলেন। তবে তাদের কথা ঠিক না। চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে গরু আসে না।
তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করার দাবি তুলেছি। লাশ ফেরত চেয়েছি। অন্যায়ভাবে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
লে. কর্নেল খালেকুজ্জামান জানান, রোববার ভোরের দিকে বিজিবির একটি টহল দলের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গার ঠাকুরপুর সীমান্তের ৮৯ নম্বর মেইন খুঁটির কাছে গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের টহল আরো জোরদার করেন। এরপর এদিন সকালে ওই সীমান্ত খুঁটির কাছে বিজিবি সদস্যরা ভারতের মালুয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডেন্টের গাড়িসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পায়। তার কিছুক্ষণ পর বিএসএফ সদস্যরা ভারতের অভ্যন্তর থেকে মোবাইল ফোনে গুলিতে নিহত যুবকের ছবি তুলে সেটা বিজিবির কাছে পাঠায়। বিজিবি ওই ছবি ঠাকুরপুর গ্রামবাসীদের দেখালে নিহত ওমিদুলের বাবা সেটা তার ছেলে বলে নিশ্চিত করেন।
ছবি বিজিবির কাছে পাঠিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা জানায়, নিহত ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিএসএফ সদস্যদের চ্যালেঞ্জ করেন। ওই সময় বিএসএফ গুলি ছুড়লে তিনি নিহত হন।
এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ মালুয়াপাড়া বরাবর প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে। আহ্বান জানানো হয়েছে পতাকা বৈঠকের। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওমিদুলের লাশ ফেরত পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিজিবির অধিনায়ক।
তিনি আরো বলেন, নিহত ওমিদুলের বাবা বলেছেন, তার ছেলে রাজমিস্ত্রির সহযোগী হয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাদের প্ররচনায় পড়ে তিনি ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকেছিল, তা তার জানা নেই।
এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত পতাকা বৈঠকের বিষয়ে বিএসএফ এর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পায়নি বিজিবি।

আরও পড়ুন