দাম কম, মণিরামপুরে আমন চাষির মাথায় হাত

আপডেট: 01:23:43 01/12/2019



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর  (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামের বর্গা চাষি ইব্রাহিম। একবিঘা জমি লিজ নিয়ে আমন চাষ (গুটি স্বর্ণা) করেছেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতে তার খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। এক বিঘায় ধান পেয়েছেন ১৬ মণ। প্রতিমণ ধান উৎপন্ন করতে খরচ পড়েছে ৭৫০ টাকা। বিক্রি করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন ধানের বাজার দর মণপ্রতি ৫৮০ টাকা। মণপ্রতি তার লোকসান ১৭০ টাকা।
ইব্রাহিম বলেন, ‘জমির মালিককে ছয় মণ শোধ করে থাকছে দশ মণ; যা বিক্রি করলে আমি পাঁচ হাজার ৮০০ টাকা পাচ্ছি। সাথে দুই হাজার টাকার বিচালি বিক্রি করে মোট সাত হাজার ৮০০ টাকা হচ্ছে। আমন চাষ করে মোট লস চার হাজার ২০০ টাকা। ফলে মণপ্রতি লস ৪২০ টাকা।’
উপজেলার স্মরণপুর গ্রামের বর্গা চাষি ফুরকান। তিনি ১১ হাজার টাকা খরচ করে একবিঘা জমিতে ১৫ মণ ধান পেয়েছেন। জমির মালিককে ছয় মণ দিলে তার থাকছে নয় মণ। ৫৮০ টাকা মণপ্রতি ধান ও দুই হাজার টাকার বিচালি বিক্রি করে পাচ্ছেন সাত হাজার ২২০ টাকা। এই কৃষকের মণপ্রতি লোকসান ৪২০ টাকা।
রঘুনাথপুর গ্রামের নূরআলম মিন্টু ২৫ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে গুটি স্বর্ণা ধান করেছেন। ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ২২ মণ ধান পেয়েছেন। জমির মালিককে সাত মণ শোধ করে তার থাকছে ১৫ মণ। সেই হিসেবে প্রতিমণ ধান উৎপন্ন করতে তার খরচ পড়েছে এক হাজার টাকা। ৫৮০ টাকায় বিক্রি করলে মণপ্রতি তিনিও ৪২০ টাকা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
শুধু ইব্রাহিম, মিন্টু বা ফুরকান নন, চলতি মৌসুমে আমন চাষ করে ক্ষতির শিকার হয়েছেন পট্টি গ্রামের শফিকুল, মাহমুদকাটি গ্রামের ইউসুফ, নুর আলম, নাজিমসহ হাজারো চাষি।
নাজিম জানান, তিনি লিজ নিয়ে সাত বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি তিন হাজার টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।
কৃষকরা বলছেন, এই বছরই বোরো ও আমন ধান চাষ করে লোকসান হচ্ছে। এভাবে চললে আগামীতে তাদের পক্ষে ধান চাষ করা সম্ভব হবে না।
চলতি মৌসুমে উপজেলার ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ভরা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষবকে সেচ বাবদ বিঘাপ্রতি দুই হাজার টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। তারসঙ্গে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ধানের ফলন কম হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।
উপজেলার টেংরামারী বাজারের ধান ব্যবসায়ী ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমন ধান ওঠার শুরুতে গুটি স্বর্ণা (মোটা) ধান আমরা সাড়ে ৬০০ টাকা করে কিনেছি। আজ রোববার (১ ডিসেম্বর) তা ৫৭০-৫৮০ টাকায় মণ কিনছি। আর ব্রি-৪৯ (চিকন) কিনছি ৬০০ টাকা করে। দিন গেলেই ধানের দাম কম হচ্ছে। ফলে ধান কিনে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’
ধানের বাজার স্থিতিশীল চান এই ব্যবসায়ী।
এদিকে ধানের দাম ক্রমশ কমলেও চালের বাজার ঊর্ধ্বগামী হচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি মোটা চাল ৩৪ টাকা ও চিকন চাল ৩৮ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। চালের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের দাম বাড়ানোর দাবি কৃষকদের। সেই ক্ষেত্রে খোলাবাজারে মোটা ধানের মণ ৮০০ টাকা নির্ধারণের দাবি তাদের।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরককুমার সরকার বলেন, দেশি ব্রি-৪৯, ব্রি-৭৫ ও ব্রি ৮৭ জাতের ধানের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি কৃষক ২০-২২ মণ ধান পেয়েছেন। বাজারে এই ধানের মণ ৬৫০ টাকা করে। খোলাবাজারে ধানের দাম হাজার টাকার ওপরে হলে কৃষক লাভবান হবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন