দায়সারা সংস্কার, ফের ফেটেছে সেই রাস্তা

আপডেট: 02:32:08 12/01/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের টেংরামারী-জালালপুর গ্রামীণ সড়কটি পাকাকরণের নয় মাসের মাথায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
গত ১৫ ডিসেম্বর এই সড়কটি নিয়ে ‘মণিরামপুরে নতুন রাস্তায় ফাটল!’ শিরোনামে সুবর্ণভূমিতে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। রিপোর্ট প্রকাশের কয়েকদিন পর ফাটা স্থানগুলোর কিছুস্থান পিচ ও পাথর দিয়ে সংস্কার করেন ঠিকাদার। এর পরপরই সংস্কার হওয়া স্থানেই ফের ফাটল দেখা দিয়েছে। দায়সারাভাবে সংস্কার করায় রাস্তা আবার ফেটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শুধু সংস্কারের স্থানে নয়, ওই সড়কের কয়েক স্থানের পিচে নতুন করে ফাটল ধরেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কার করলে হবে না, আবার রাস্তা খুঁড়ে নতুন করে পিচ দিতে হবে।
টেংরামারী-জালালপুর সংযোগ কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন চলাচলের অনুপযোগী ছিল। বর্ষা মৌসুমে হাঁটুকাদা হওয়ায় এই রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হতো স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিতে বর্তমান সংসদ সদস্য সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য দুই হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই অনুযায়ী এক কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তাটি পাকাকরণের কাজ পায় ‘বিশ্বজিৎ কনসট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ সালের শেষ দিকে কাজ শুরু হয়। কাজের শুরুতে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। পরে এলাকাবাসীর বাধার মুখে কাজ বন্ধ করে দেন তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান। খারাপ ইট সরিয়ে ভালো ইট দিয়ে কাজ করার জন্য ঠিকাদার বিশ্বজিৎ দাসকে চিঠি দেন তিনি। তখন জনগণের আই ওয়াশ করতে নামমাত্র কয়েক ট্রলি ইটের খোয়া সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর দুই-তিন মাস বিরতি দিয়ে স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালীকে ‘ম্যানেজ’ করে আবার কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। ২০১৯ সালের মার্চে সড়কটি পাকাকরণের কাজ শেষ হয়। কাজ শেষ হওয়ার কয়েকমাসেই সামছুদ্দিনের বাড়ির সামনে থেকে রিফিউজিপাড়া পর্যন্ত রাস্তার কয়েকস্থানে পিচে ফাটল ধরে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তটি অনেক সরু ছিল। নতুন মাটি ফেলে রাস্তা চওড়া করা হয়েছে। কিন্তু মাটি ঠিকমতো না রোলিং করে রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হয়। তাছাড়া খুবই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে এই রাস্তায়।
রঘুনাথপুর গ্রামের অমল মণ্ডল বলেন, রাস্তাতো ফেটেছে অনেক আগে। কয়দিন আগে সন্ধ্যার পরে দেখলাম এক ট্রলি (সামান্য) পাথর ও পিচ এনে কিছু ফাটা জায়গায় কোনোরকম ছিটিয়ে দিচ্ছে লোকজন। পিচ ও পাথর সমান না করে তার ওপরে বালি দিয়েছে। এখন সেই পিচ ও পাথরের পাশ দিয়ে রাস্তা আবার ফেটেছে।
জানতে চাইলে ঠিকাদার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, জালালপুরে একটা রাস্তায় কাজ চলছে। সেই রাস্তায় ব্যবহৃত পাথর এই রাস্তা দিয়ে ট্রাকে করে নেওয়া হয়েছে। ট্রাকের ভার সইতে না পেরে রাস্তা ফেটে গেছে। ফাটল স্থানগুলোতে পিচ ও পাথর দেওয়া হয়েছে। এখন আবার ফাটল ধরলে তাও সংস্কার করা হবে।
মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, রাস্তায় ফাটলের ব্যাপারে ঠিকাদারকে চিঠি করা হয়েছে। তার জামানত অফিসে জমা আছে। জামানত উঠানোর আগে তিনি রাস্তা ঠিক করে দেবেন।

আরও পড়ুন