দীর্ঘ ছুটিতে হতাশায় মাগুরার শিক্ষার্থীরা

আপডেট: 07:03:48 07/06/2021



img

এস আলম তুহিন, মাগুরা:  করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১৫ মাস দেশের সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খোলেনি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকার বার বার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তারিখ বদল করছে।
মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে দেশের শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেরই আচার-আচারণেও পরিলক্ষিত হচ্ছে উল্লখ্যযোগ্য পরিবর্তন। মানসিক দুরাবস্থা থেকে উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া প্রয়াজন বলে মনে করছেন অভিভাবকদের অনেকেই। এই সময়ে একাকিত্ব, স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তি ইত্যাদি কারণে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
পাশাপাশি স্কুল-কলেজপড়ুয়া অনেকেই টিউশনি, পার্ট টাইম চাকরি ইত্যাদি উপায়ে আয় করতেন। সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
শুধু তারাই নয়, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা এখন মোবাইলে গেম খেলে সময় পার করছে। কোনোভাবেই সন্তানদের বইমুখী করতে পারছে না অনেক অভিভাবক।
নাজমুন নাহার রত্না নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘দীর্ঘসময় বন্ধ পেয়ে ছেলেমেয়েরা বাড়িতে পড়াশুনা করছে না। আমার মেয়ে গতবছর চতুর্থ শ্রেণিতে ছিল। সে অটো পাশ করে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেছে। এবার সমাপনী পরীক্ষার্থী। বছরের শুরুর দিকে পড়ালেখা করলেও বর্তমানে ঠিকমতো পড়ছে না। সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছে।’
মাহবুব নামে এক দরিদ্র কলেজশিক্ষার্থী বলেন, ‘কলেজ বন্ধ থাকায় আমাদের পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস না করলে ভালো ফল হয় না।  আমার বাবা পেশায় অটোচালক। অনলাইনে ক্লাস হয়; কিন্তু ইন্টারনেটে অনেক খরচ। তাই ক্লাস করতে পারছি না।’
শ্রীপুর জিকে আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ইমাম জাফর বলেন, ‘সকল শিক্ষার্থীকে অনলাইনের আওতায় এনে পাঠদান করানো সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের প্রতিষ্ঠানটি শহর থেকে অনেক দূরে, গ্রামে। ইন্টারনেট ভালো কাজ করে না। অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে ঠিকমতো ক্লাস করছে না। সরকার যদি আগে থেকে সপ্তাহে ২-৩ দিন ক্লাসের ব্যবস্থা করতো, তাহলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা পড়াশুনার মধ্যে থাকতো। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রায় সকল শিক্ষার্থীই এখন মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে তাদের বইমুখো করা যায় তার পরিকল্পনা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।’
হলি চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আর বাড়িতে থাকতে চায় না। স্কুলে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। অনেক অভিভাবক ফোন করে সীমিত পরিসরে বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু আমি সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না। সরকার সীমিত পরিসরে সপ্তাহে ২-৩ দিন তিনটা ক্লাস চলানোর অনুমতি দিলে ভালো হতো।’
মাগুরার কবি মিয়া ওয়াহিদ কামাল বাবলু বলেন, ‘আমরা একটা কঠিন সময়ের মধ্যে পার করছি। করোনা সংক্রমণ কমলে সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ খুলে দিলে শিক্ষার্থীদের মন ভালো হতো। দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে। মোবাইল, ইন্টারনেটে আসক্তির পাশাপাশি নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে তারা। অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী পড়াশুনা ছেড়ে  নানা পেশায় যুক্ত হচ্ছে।’
ডা. আবুল কাশেম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষা গবেষক বিশ্বাস মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। যে সময় করোনা সংক্রমণ কম ছিল তখন যদি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সপ্তাহে ২-৩ দিন পাঠদান অব্যাহত রাখা হতো তাহলে শিক্ষার্থীরা এত ভেঙে পড়তো না। অবিলম্বে বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের এই হতাশা দূর করতে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন