দুইদিনেই ভেঙে পড়লো ‘গরিবের ঘর’

আপডেট: 07:24:52 20/09/2020



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঘরের দেয়াল তোলা হয়েছিল মাত্র দুইদিন আগে। এরই মধ্যে তার একটি দেয়াল ধসে পড়লো। ‘যার জমি আছে ঘর নেই তার জমিতে গৃহ নির্মাণ’ উপ-খাতের আওতায় গৃহহীনদের বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে এই ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শনিবার এই ঘটনা ঘটে। সেখানকার হাবিবপুর এলাকায় দেয়াল ধসে রাজন নামে এক নির্মাণশ্রমিক আহত হন।
এ ঘটনার পর থেকে নির্মাণ কাজে অনিয়মের নানা অভিযোগ সামনে আসছে। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, নির্মাণশ্রমিকদের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। ঘর হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত কোনো ত্রুটি থাকলে তা শ্রমিকরা ঠিক করে দেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৭টি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির প্রথম থেকেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হেল আল মাসুম প্রকল্পের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, তার অফিসে এ সংক্রান্তে কোনো তালিকা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এককভাবে প্রকল্পের কাজ দেখভাল করছেন। এমনকি কোন গ্রামের কোথায় ঘর হচ্ছে- সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য দেননি ইউএনও।
হাবিবপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ঘর ধসে পড়ার বিষয়ে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুর রহমান বলেন, নামকাওয়াস্তে দায়সারাভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। গরিবের ঘর নির্মাণেও সিসি ঢালাইবিহীন নরম মাটি থেকে ইট গাঁথা শুরু করায় ভবিষ্যতে এসব ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খুবই নিম্নমানের ইট-বালি ও স্বল্প পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করায় ঘরগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঘরে ওপরের ছাউনিতে হালকা কাঁচা মেহগনি কাঠের ফ্রেম ও রেলিং বাঁধুনিতে রডের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে জিআই তার। ফলে ঝড়বৃষ্টিতে উড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যাপক।
মনোহরপুর, নাকোল, দিগনগর, কাচেরকোলসহ বিভিন্ন এলাকায় হতদরিদ্রদের জন্য এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে, কিছু ঘরের পলেস্তরা খসে পড়ছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গরিবের জন্য নির্মাণাধীন এসব ঘর পেতে একটি ‘দালাল সিন্ডিকেট’ কাজ করেছে। অনেক এলাকায় ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়ে পাকা ঘরের তালিকায় নাম লেখাতে হয়েছে।
এই বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেনের ভাষ্য, ইউএনও এ প্রকল্পের সভাপতি এবং পিআইও সদস্য সচিব। তা হলেও যতটুকু জানা গেছে, অফিস সহকারী মিন্টুকে দিয়ে ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার করে কাজ চলছে। সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গরিবমানুষের মাথা গোঁজার জন্য গৃহীত উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসরাম বলেন, নির্মাণশ্রমিকদের অব্যবস্থাপনার কারণে হাবিবপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। পাকা ঘরগুলো সরকারি বিধি মোতাবেক করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট, বালি ব্যবহারের অভিযোগ ঠিক না।
তিনি বলছেন, ঘরগুলো হস্তান্তরের পূর্ব পর্যন্ত কোথাও ভেঙে পড়লে মেরামত করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন