দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট!

আপডেট: 09:18:39 09/06/2021



img

নড়াইল প্রতিনিধি: কালিয়ায় গ্রাহকদের প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে বেসরকারি ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট খায়রুল বাশার। উপজেলার চাচুড়ীতে অবস্থিত ওই ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় ঘটে এ ঘটনা। জানাজানি হলে তালাবদ্ধ অফিসের সামনে বিকেলে গ্রাহকরা ভিড় জমাতে থাকে।
খায়রুল বাশার উপজেলার ফুলদাহ  গ্রামের ইমাদুল খানের ছেলে।
সরেজমিনে জানা যায়, ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কালিয়া উপজেলার চাচুড়ী শাখাটি ২০১৯ সালের মাঝামাঝির দিকে স্থাপন করা হয়। এজেন্ট খায়রুর বাশার জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা হারে জামানত নিয়ে শাখাটিতে ১০জন কর্মচারী নিয়োগ দেন। বর্তমানে শাখাটিতে ডিপিএস, মেয়াদি আমানত ও সঞ্চয়ী হিসাব মিলে সহস্রাধিক গ্রাহক নিয়মিত লেনদেন করে থাকেন। প্রতি মাসে ২ হাজারেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকেন। কিন্তু গত ৩ মাস ধরে গ্রাহকরা বিল পরিশোধের পরও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার নোটিস পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে, ওই ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহকরা গত বেশকিছু দিন ধরে তাদের হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারছেন না। এছাড়া মাসিক মুনাফা হিসাবের গ্রাহকরা মুনাফার টাকা তুলতে না পারার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় এজেন্ট খায়রুল বাশারকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার উপজেলার চাচুড়ী গ্রামের মফিজুল হক, পুরুরিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, ডহরচাচুড়ী গ্রামের পিটু বিশ্বাস টাকা তুলতে না পেরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে তাদের হিসাব নম্বরে কোনো টাকা জমা নেই। গ্রাহকদের হিসাব নম্বর থেকে টাকা উধাও ও বিদ্যুৎ বিলের টাকা জমা না করে হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাটি ওই এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তারপর গ্রাহকরা বিকেলে ওই এজেন্ট অফিসে ভিড় জমাতে শুরু করে। ততক্ষণে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে খায়রুল বাশার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।  
যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি ২ এর কালিয়া আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম মো. মমিনুর রহমান বিশ্বাস বলেন,‘ওই এলাকার প্রায় ২ হাজার বিদ্যুত গ্রাহক ওই ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করে থাকে। কিন্তু গত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ওইসব গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৫ লক্ষাধিক টাকা ওই এজেন্ট গ্রহণ করলেও তা ব্যাংকে জমা দেননি। ওই সমস্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। ঘটনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’  
কালিয়া থানার ওসি সেখ কনি মিয়া বলেন,‘বিষয়টি শুনেছি। কেউ অভিযোগ করেননি। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



আরও পড়ুন