দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত বাংলাদেশের

আপডেট: 07:02:45 22/01/2021



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : করোনাকালের বিরতিতে লম্বা সময় থাকতে হয়েছে মাঠের বাইরে। ঘরোয়া ক্রিকেটের দুটো প্রতিযোগিতা দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক আঙিনা সবসময়ই অন্যরকম জায়গা। সেই চ্যালেঞ্জটা বাংলাদেশ দল জৈব ‍সুরক্ষা বলয়ে থেকে কেমন নিতে পারে, সেটাই ছিল দেখার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পর তামিম ইকবালরা জানিয়ে দিলেন, করোনাকাল তাদের কিছুই কাড়তে পারেনি।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটের সহজ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আজ (শুক্রবার) দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৩.৪ ওভারে ১৪৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৩৩.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তামিমরা। এতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে স্বাগতিকরা পায় পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ সুপার লিগে আরও ১০ পয়েন্ট যোগ হলো বাংলাদেশের। সব মিলিয়ে স্বাগতিকদের পয়েন্ট হলো ২০।
সিরিজ জিততে চাই ১৪৯ রান। আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করেছিলেন লিটন দাস। বিপরীতে দেখেশুনে খেলছিলেন তামিম। তাই তাদের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসা ৩০ রানের ২২-ই এসেছে লিটনের ব্যাট থেকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ব্যাট করা লিটন অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আকিল হোসেইনের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরেছেন এই ওপেনার। যাওয়ার আগে ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ২২ রান।
তার বিদায়ের পর ওয়ান ডাউনে নামা শান্তর শুরুটাও ভালো ছিল। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া এই ব্যাটসম্যান দারুণ কিছু শট খেলে দলের রান বাড়িয়ে নিয়েছেন। যদিও উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জেসন মোহাম্মদের শিকার হওয়ার হওয়ার আগে ২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে খেলে যান ১৭ রানের ইনিংস।
এরপরই তামিমের সঙ্গে জ্বলে ওঠে সাকিবের ব্যাট। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দলকে নিয়ে যান জয়ের দিকে। দারুণ ব্যাটিংয়ে করোনা বিরতি পর বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তামিম। রেমন রেইফারের বলে আউট হওয়ার আগে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৮তম হাফসেঞ্চুরি। ৭৬ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কা খেলেন ৫০ রানের ইনিংস।
বাকি কাজটা সেরেছেন সাকিব ও মুশফিকুর রহিম। ব্যাট হাতে সংগ্রাম করা সাকিব ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ম্যাচ জেতানোর পথে খেলেছেন হার না মানা ৪৩ রানের ইনিংস। ৫০ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারিতে। আর মুশফিক ২৫ বলে অপরাজিত থাকেন ৯ রানে।  
ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন বোলার- জেসন মোহাম্মদ, আকিল হোসেইন ও রেমন রেইফার প্রত্যেকে নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
এর আগে ক্যারিবিয়ানদের অল্প রানে আটকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান। ৯.৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল মিরাজ। আর সাকিব ১০ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তাদের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের (২/১৫) চমৎকার বোলিংয়ে ক্যারিবিয়ানরা ৪৩.৪ ওভারে অলআউট হয় ১৪৮ রানে।
আগের ম্যাচের মতো শুক্রবারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ছন্দে ছিলেন মিরাজ-সাকিব। পাল্লা দিয়ে উইকেট তুলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে একের পর এক উৎসবের মুহূর্ত এনে দিয়েছেন স্বাগতিকরা। মিরাজ এক ওভারে ২ উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের চাপে ফেলে দেন। এরপর সাকিব আল হাসানের আঘাতে দিশেহারা হয়ে পড়ে সফরকারীরা।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪১ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪ বলের মধ্যে ২ উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের চেপে ধরেন মিরাজ। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ডানহাতি স্পিনার ফেরান কিয়র্ন ওটলিকে। ২৪ রান করে ক্যারিবিয়ান ওপেনার ধরা পড়েন তামিম ইকবালের হাতে। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগে ওই ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন জোশুয়া দা সিলভা। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেন মাত্র ৫ রান।
পরের ওভারেই আবার সাকিবের আঘাত। প্রথম ওয়ানডেতে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করা বাঁহাতি স্পিনার প্রথম ওভারেই পেয়েছেন সাফল্য। ষষ্ঠ বলে তিনি বোল্ড করেন আন্দ্রে ম্যাকার্থিকে (৩)। এই সাকিবের ওভারেই আবার রান আউটের শিকার হন কাইল মায়ার্স। নাজমুল হোসেন শান্তর চমৎকার থ্রো ধরে উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম স্টাম্প ভেঙে দিলে রানের খাতা খোলার আগে তাকে ফিরতে হয়।
খানিক পর আবার সাকিবের উইকেট উদযাপন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নে ফেরান। যাওয়ার আগে জেসন করেন ১১ রান।
সাকিব-মিরাজদের আনন্দের সঙ্গে যোগ দেন হাসান মাহমুদ। অভিষেকে আলো ছড়ানো এই তরুণ পেসারের বলে বোল্ড হয়ে যান ২০ রান করা এনক্রুমা বনার। খানিক পর মিরাজের তৃতীয় শিকার হয়ে রেমন রেইফার (২) ফিরলে ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০০ পেরোতে পারবে কিনা, সেই সংশয়ও জাগে। কিন্তু রোভম্যান পাওয়েলের ব্যাটে ১৪৮ পর্যন্ত গেছে ক্যারিবিয়ানদের স্কোর। মিরাজের বলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে পাওয়েল ৬৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় খেলেন ৪১ রানের ইনিংস।
তবে বাংলাদেশকে দারুণ ‍শুরু এনে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে তিনি ফিরিয়েছেন সুনিল অ্যাব্রিসকে। ৬ রান করে ক্যারিবিয়ান ওপেনার আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ হয়ে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন