দুর্গোৎসব : ঝিনাইদহে প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা

আপডেট: 03:15:33 22/09/2019



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ জেলার মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। অন্যদিকে, উৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলার পুলিশ প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
আগামী ৪ অক্টোবর ষষ্ঠির মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। এবার জেলার ৪৩২টি মণ্ডপে পূজা হবে। এরমধ্যে ৮৩টি মণ্ডপকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার মন্দির কমিটির নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
পূজা উৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। এখন দো-মাটির কাজ চলছে। একেকজন কারিগর পাঁচ থেকে ছয়টি করে মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করছেন। মন্দির ভেদে তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নেন। প্রতিমা তৈরির অন্যান্য উপাদান, মাটি, বাঁশ সরবরাহ করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ফলে লাভের অংকটা বেশ সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বারোয়ারী দুর্গামন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন অরবিন্দু। কথা হয় এই প্রতিমাশিল্পীর সঙ্গে। তার ভাষ্য, মাটির কাজ শেষে হলেই শুরু হবে রঙ-তুলির আঁচড়। প্রতিমাগুলো মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন তিনি। এবছর তিনি ছয়টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করছেন। দক্ষ এই শিল্পীর আশা, নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে প্রতিমা তৈরির কাজ।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কনককান্তি দাস জানান, এবার জেলায় ৪৩২টি মন্দিরে পূজা হবে। এ উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। সুন্দর পরিবেশে পূজা উৎযাপন করতে ইতোমধ্যে মন্দিরে মন্দিরে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত সার্বিক খোঁজ-খবর রাখছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর আছেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান জানান, শারদীয় দুর্গাপূজায় যেন কোনো ধরনের অপ্রতীকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন কাজ করছে। জেলার সব মন্দিরে পুলিশের নিয়মিত টহল থাকবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সকল প্রকার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন