দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে ফারুকের স্বপ্ন

আপডেট: 08:58:12 04/03/2021



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ‘স্বপ্ন ছিল চাকরি করে দুটো সন্তান মানুষ করব। অবিবাহিত এক বোনকে বিয়ে দেবো। মা-বাবাকে ভালোমতো দেখাশোনা করব। চাকরি পেয়েছিলামও। পাচ্ছিলাম ভালো বেতন। কিন্তুসড়ক দুর্ঘটনা আমার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এখন আমার সংসার চালানোই কষ্টকর। কারও সহযোগিতা ছাড়া উঠতে পারি না। প্রাণে বেঁচে গেলেও একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। একটি প্লাস্টিকের পা লাগিয়ে চলাফেরা করব- তা কেনার সামর্থ্যও নেই।’
এভাবেই কষ্টের কথা বলছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের মকবুল মণ্ডলের ছেলে ফারুক হোসেন (৩০)।
গত বছরের ২৩ আগস্ট শহরের সিটি মোড়ে ফলবোঝাই এক ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। বাবা-মা সহায়-সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচাতে পারলেও হারিয়েছেন তার ডান পা।
ফারুকের বাবা মকবুল মণ্ডল বলেন, ‘আমার ছেলে মাস্টার্স শেষ করে একটি কোম্পানিতে চাকরি করছিল। তার পোস্টিং ছিল নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরে। গত বছর বাড়িতে এলে দুর্ঘটনা ঘটে। এখন সংসার চালাতে পারছি না। সাত সদস্যের সংসারে এখন অভাব-অনটন লেগেই রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে চিকিৎসা খরচ।’
এ অবস্থায় সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন এই অসহায় বাবা।
বোন শিউলি খাতুন বলেন, ‘আমার ভাই এখন চলতে পারে না। বাড়ি থেকে বের হলেই আমি সাথে যাই। আর কতদিন এভাবে চলবে সে? প্লাস্টিকের পা কিনতে পারলে সে কোনোমতে একা একা চলাফেরা করতে পারতো। বৃদ্ধ বাবার সামর্থ্য নেই এত টাকা দেওয়ার। সমাজের বিত্তবানরা যদি আমার ভাইকে সহযোগিতা করতো কষ্টের মধ্যে হলেও সে একটু বেঁচে থাকতে পারতো।’
ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমার জীবন তো শেষ। আমার দুটি সন্তান রয়েছে। এখন পারি না কোনো কাজ করতে। পারি না ভিক্ষে করতে। এই অবস্থার মধ্যে দিয়েই চলছে। এভাবেই জীবন পার করতে হবে। সন্তান দুটো মানুষ করতে পারলে আমি মরেও শান্তি পেতাম। কিন্তু তাদের লেখা-পড়া শেখাবো কী করে? কাজও করতে পারি না। কোথাও যেতে পারি না। একটি পা কিনতে চাচ্ছি। এত টাকাও নেই। মানুষের সহযোগিতা পেলে একটি পা কিনতে পারতাম।’
ফারুক হোসেনকে সহযোগিতা করা যেতে পারে তার পারসোনাল বিকাশ নাম্বার ০১৭৪১-৪২১০৮১-তে।

আরও পড়ুন