দেবহাটায় বাঁধ ভেঙে পাঁচ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট: 05:22:23 22/05/2020



img

জি এম আব্বাসউদ্দীন, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) : দেবহাটায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে সীমান্ত নদী ইছামতির ভেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে। এর ফলে পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিপদের মুখে পড়েছেন।
উপজেলার দক্ষিণ নাংলা গ্রামের ইছামতি নদীর আগে থেকে ঝুঁকিতে থাকা বাঁধটি সাইক্লোনের দিন পানির চাপে ভেঙে যায়। এর ফলে দক্ষিণ নাংলা, মাঝেরআটি, জোনাইপাড়া, মোল্লাপাড়া ও ছুটিপুর গ্রামের পানি ঢুকে পড়েছে। বিপদগ্রস্ত গ্রামবাসী পরিবার-পরিজন আর গবাদি পশু নিয়ে কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না।
বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে পাশের আরো কয়েকটি গ্রামের মানুষ গবাদি পশু, ঘের ও ফসল-ফল ক্ষতির মুখে পড়েছে। সহায় সম্পদ রক্ষা করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এছাড়া আম্পানের তাণ্ডবে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অসংখ্য ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, গাছগাছালির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, টিনের চালগুলো উড়ে গেছে, মাছে ঘেরগুলো পানির চাপে ডুবে গেছে। আর প্রত্যেকটি রাস্তার ওপরে গাছ ভেঙে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার বিকেল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বিচ্ছিন্ন রয়েছে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কও।
স্থানীয়রা বলছেন, ঝড়ের সময় রাত ১২টার দিকে বসন্তপুর স্লুইস গেটটি পানির চাপে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। স্থানীয়রা চেষ্টা চালিয়ে গেটটি রক্ষা করেন। তবে এতে স্লুইস গেট ও পাশের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দক্ষিণ নাংলা এলাকার বাঁধটি ভাঙার কারণ হিসেবে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাঁধের ওই অংশের প্রায় এক কিলোমিটার ভেঙে যাচ্ছে। পাশের ঘের মালিক নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদুল হক লাভলুকে বাঁধের পাশে একটি প্রটেকশন বাঁধ দেওয়ার কথা বললেও তিনি তা দেননি। এই কারণে বাঁধটি ভেঙে গেছে।
এলাকার রমজান আলী ও আবুল হোসেনসহ কয়েকজন জানান, কয়েকদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ওই স্থানে ব্লক দেওয়ার জন্য কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। টেন্ডারে কাজটি পান সাতক্ষীরার এক ঠিকাদার। মাহমুদুল হক লাভলু ওই ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রশস্ত বাঁধটি ওপর থেকে মাটি কেটে নিচু করে ফেলেন। যার কারণে ঝড়ের কবলে বাঁধ উপচে পানি গ্রামের মধ্যে ঢুকতে ঢুকতে বাঁধটি ভেঙে যায়।
গ্রামবাসী জানান, লাভলু প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে তার ঘের করার কারণে আজ গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবর রহমান ও মনিরুজ্জামান মনির নেতৃত্বে গ্রামবাসী বাঁধ সংস্কারে কাজ করছেন। তবে যদি পানির চাপ বাড়ে তাহলে সেটাও রক্ষা হবে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, কৃষি অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সব সেক্টর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এখনো যাননি বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুন