দেশের বাজারের চেয়ে কম দামে ইলিশ যাচ্ছে ভারতে

আপডেট: 01:16:03 17/09/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : গেল তিনদিনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে প্রায় ১৯৮ মেট্রিক টন ইলিশ। ভারতে ইলিশ রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হু হু করে বেড়ে চলেছে জাতীয় মাছটির দাম। যে দামে ভারতকে ইলিশ দেওয়া হচ্ছে, স্থানীয় বাজারে তার দাম অনেকটাই বেশি।
কাস্টমস ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, পূজা উপলক্ষে প্রতিশ্রুত এক হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশের মধ্যে গত তিনদিনে ১৯৭ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রফতানি হয়েছে ভারতে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ৯৩ দশমিক ৬ টন ইলিশের চালান কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ৪১ দশমিক ৩ টন ও মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ৬৩ টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়।
বুধবারের ইলিশের চালানটির রফতানিকারক ছিলেন ঢাকার ‘রিপা এন্টারপ্রাইজ’ ও খুলনার ‘জাহানাবাদ সি ফিশ লিমিটেড’। প্রতিকেজি ইলিশের রফতানি দর নির্ধারণ করা হয়েছে দশ মার্কিন ডলার হিসেবে ৮০০ টাকা। এই দরে রফতানি করা প্রতিটি ইলিশের সাইজ ছিল এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের।
মৎস্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ও বেনাপোলের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার নয়জন রফতানিকারককে মোট এক হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। প্রতিকেজি দশ মার্কিন ডলার দরে মোট এক লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের ইলিশ ভারতে রফতানি করা হবে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শামিম হোসেন জানান, প্রতি কেজি ১০ ডলার মূল্যে শুল্কমুক্ত সুবিধায় এ ইলিশ ভারতে রফতানি হচ্ছে।
স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যে দামে ভারতকে ইলিশ দেওয়া হচ্ছে, দেশের মানুষ সেই দরে কিনতে পারছেন না। যশোরের বিভিন্ন বাজারে একই আকারের ইলিশের দাম অন্তত ৩০০-৪০০ টাকা বেশি।
২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সাত বছর। এরপর ২০১৯ সালে বাঙালি হিন্দুর প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজো উপলক্ষে ৫০০ টন ইলিশ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। আবার এক বছর পর ফের বেনাপাল-পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে পশ্চিম বাংলায় যাচ্ছে বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ।

আরও পড়ুন