দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন টাকার কুমির এনু-রুপন

আপডেট: 05:47:19 13/01/2020



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ক্যাসিনোকাণ্ডে পলাতক গেণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া ভুয়া পাসপোর্টে দেশ ছাড়ার চেষ্টায় ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সোমবার ভোরে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় একটি দশতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়।
শেখ মোস্তফা নামে তাদের এক সহযোগীকেও ওই বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন জানান।
দুপুরে ঢাকার মালিবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শেখ মোস্তফার সহযোগিতা নিয়ে শুভাঢ্যায় ওই বাড়ির দশতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করেছিলেন এনু ও রুপন।
“গ্রেফতারের সময় তারা বাসার টয়লেটের ওপরে ফাঁকা অংশে লুকিয়ে ছিলেন। ওই বাসা থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।”
ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পরিচালক এনু ছিলেন গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আর তার ভাই রুপন ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে ওয়ান্ডারার্সে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সরঞ্জাম, কয়েক লাখ টাকা ও মদ উদ্ধার করে র্যাব।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর গেণ্ডারিয়ায় প্রথমে এনু ও রুপনের বাড়িতে এবং পরে তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সিন্দুকভর্তি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে সে সময় তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। 
তখন র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিন্দুকে পাওয়া ওই টাকার উৎস ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোর। টাকা রাখতে জায়গা বেশি লাগে বলে কিছু অংশ দিয়ে সোনা কিনে রাখতেন এনামুল। 
ওই ঘটনার পর মোট সাতটি মামলার করা হয়, যার মধ্যে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা ও অর্থ-পাচারের অভিযোগে চারটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।
ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র‌্যাবের ওই অভিযানের পর এনু ও রুপন কক্সবাজারে চলে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
“সেখান থেকে তারা নৌপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু ওই পথে যেতে না পেরে কেরানীগঞ্জে এসে আশ্রয় নেন এবং ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি করান। পাশের দেশের ভূমি ব্যবহার করে ওই পাসপোর্ট দিয়ে নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।”
সিআইডি বলছে, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো কারবারের হোতা ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এ দুই ভাই। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই ভাইয়ের নামে ২২টি বাড়ি ও জমি এবং পাঁচটি যানবাহনের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
“জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, প্রথমে ওই ক্লাবে তারা 'ওয়ান টেন' নামে একটি জুয়া খেলা চালু করে, পরে নেপালিদের মাধ্যমে সরঞ্জাম এনে সেখানে পুরোদস্তুর ক্যাসিনো চালু করে।”
দুই ভাইয়ের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৯১টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে প্রায় ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এসব ব্যাংক হিসাব এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন