দোকানির টাকা হাতিয়ে মাদকে ফাঁসানোর অভিযোগ

আপডেট: 09:31:21 13/01/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ৭০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক বিক্রির ৫৮ হাজার টাকা উদ্ধারসহ মো. নাসির (৩৬) ও মুরাদ হোসেন (৪০) নামে দুইজনকে আটকের দাবি করেছে। তবে, আটক নাসিরের স্ত্রীর কুলসুম ও বড় বোন মমতাজ বলছেন, ওই অফিসের লোকজন দোকান থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে গেছেন; মালামাল কেনার জন্য জমি বন্ধক রেখে যা আনা হয়েছিল।
সোমবার বিকেল চারটার দিকে উপশহরের বি ব্লকে এই ঘটনা ঘটে। আটক নাসির উদ্দিন ওই এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে এবং মুরাদ হোসেন একই এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে।
যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন সুবর্ণভূমিকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বি ব্লকের ‘নাসির ইলেকট্রিক’ নামে একটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সেখান থেকে ৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫৮ হাজার ৪৯০ টাকা উদ্ধার এবং নাসির উদ্দিন ও মুরাদ হোসেন নামে দুইজনকে আটক করা হয়।
তার দাবি, এই মাদক চক্রকে ধরতে প্রথমে মাগুরা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে আজকের এই অভিযান।
তবে আটক নাসিরের স্ত্রী কুলসুম ও কুলসুমের বড় বোন মমতাজ বেগমের দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, বি ব্লকে তাদের নাসির ইলেকট্রিক নামে একটি দোকান আছে। কিন্তু সেখানে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লোকজন কোনো অবৈধ দ্রব্য উদ্ধার করতে পারেননি। উল্টো দোকানের ড্রয়ারে রাখা এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন; যে টাকা তাদের বাবা বাবা আব্দুল হক জমি বন্ধক রেখে সংগ্রহ করেছিলেন দোকানে মাল তোলার স্বার্থে। অভিযানকারীদের বক্তব্য ডাহা মিথ্যা বলে অভিযোগ করেন এই দুই নারী।
নাসিরের ভায়রা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘নাসির মাদক ব্যবসায়ী না। অথচ দোকানে অভিযানের নামে সেখানকার সমস্ত মালামাল ফেলে দিয়েছে সরকারি লোকজন। দোকানে থাকা এক লাখ টাকাও জের করে নিয়ে গেছে।’
এই সব অভিযোগ করার সময় পরিবারটির সদস্যরা কাঁদছিলেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন দাবি করেন, ঘটনাস্থলে এক লাখ টাকা পাওয়া যায়নি; ৫৮ হাজার ৫৯০ টাকা পাওয়া গেছে।
সংবাদকর্মীরা তাদের সামনে টাকা গোনার অনুরোধ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাদকদ্রব্য অফিসের লোকজন। একজন বলেন, ‘সাংবাদিকদের এতো মাতামাতি কেন!’

আরও পড়ুন