ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা

আপডেট: 07:52:53 21/10/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : জাতীয় দলের এখন কোনো খেলা নেই। তাই নিস্তরঙ্গ সময় কাটছিল ক্রিকেটে। হঠাৎ ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডাকে সরগরম দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ১১ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট কর্মকাণ্ড থেকে সরে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন সাকিব-তামিমরা।
সোমবার মিরপুর ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এরপর নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাঈম ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র, এনামুল হক বিজয়, তাসকিন আহমেদ, জুনায়েদ সিদ্দিকরা। দাবিগুলো হলো-
১। কোয়াব বিলুপ্ত করতে হবে :  কোয়াব বিলুপ্তির ব্যাপারে প্রথম দাবি পেশ করেছেন নাঈম। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রথম দাবি, কোয়াব (ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বিলুপ্ত করতে হবে। বর্তমানে এর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। কোয়াব ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হলেও তাদের কখনোই আমরা পাশে পাই না। কোয়াবের প্রেসিডেন্ট এবং সেক্রেটারিকে পদত্যাগ করতে হবে। কোয়াবের প্রেসিডেন্ট এবং সেক্রেটারি কে হবেন তা ক্রিকেটাররা নির্বাচন করবে।’
২। প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দলবদল : কয়েক বছর ধরে প্লেয়ার ড্রাফট পদ্ধতিতে দলবদল হচ্ছে। কিন্তু কোনো ক্রিকেটারই এই পদ্ধতিতে দলবদল করতে চান না। এ বিষয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ নিয়ে সব ক্রিকেটারই অসন্তুষ্ট। কারণ এখানে পারিশ্রমিক  নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। খেলোয়াড়রা আগে বাছাই করতে পারতো, কে কোন দলে খেলবে, পারিশ্রমিক কেমন হবে। আমাদের দাবি হলো, আগের নিয়ম মেনে যেন প্রিমিয়ার লিগ হয়।’
৩। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ফর্মুলায় ফিরে যেতে হবে : বঙ্গবন্ধুর নামে বিপিএলের সপ্তম আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আধিপত্য থাকবে না। কিন্তু ক্রিকেটাররা আগামী আসর থেকে আগের নিয়মে ফিরে যেতে চান। মুশফিক বলেছেন, ‘আমাদের তৃতীয় দাবি বিপিএল নিয়ে। আমরা জানি, এ বছর বিপিএল অন্যরকম হচ্ছে। সেটা অবশ্যই রেসপেক্ট করি। আমাদের প্রধান দাবি হলো, আগের নিয়মের বিপিএল যেন আগামী বছর থেকে হয়। বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় খেলোয়াড়রদের পারিশ্রমিকে অনেক পার্থক্য থাকে। আগামীতে যেন এ ব্যাপারে সামঞ্জস্য থাকে।  স্থানীয় ক্রিকেটাররা যেন ভালো পারিশ্রমিক পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বে অনেক ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগ হয়। সেখানে খেলোয়াড়রা তাদের ড্রাফট বেছে নিতে পারে। বাংলাদেশে খেলোয়াড়দের গ্রেড নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
৪। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বৃদ্ধি : এ বিষয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিবের বক্তব্য, ‘আমরা মনে করি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি অন্তত এক লাখ টাকা হওয়া উচিত। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ৫০ ভাগ এবং খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ বাড়াতে হবে। আমরা চাই না প্রতিটি ট্রেনিং সেশন যেন ঢাকায় হয়। যার যার বিভাগে ক্রিকেটাররা যেন অনুশীলন করতে পারে।’
৫। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি : এই দাবিও তুলে ধরেছেন সাকিব। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অনেক ছোট ছোট ইস্যু আছে। এখানে প্রথম হচ্ছে বল। আমরা যে বল দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলি সেটা মানসম্মত নয়। ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা দেড় হাজার টাকা এবং ঢাকার বাইরে ভ্রমণ খরচ আড়াই হাজার টাকা থেকে বাড়াতে হবে। বিভাগভিত্তিক যাতায়াতের জন্য বিমান ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হবে সেখানে জিম এবং সুইমিং পুল থাকা বাধ্যতামূলক। মাঠে যেতে ক্রিকেটারদের জন্য এসি বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।’
৬। চুক্তিভিত্তিক ক্রিকেটারের সংখ্যা বৃদ্ধি : এ বিষয়ে এনামুল হক জুনিয়র বলেছেন, ‘জাতীয় দলে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা ৩০ জন করতে হবে। পাশাপাশি বেতন বাড়াতে হবে।’
৭। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি : তামিম বলেছেন, ‘গ্রাউন্ডসম্যান-কোচ-আম্পায়ার সবার বেতন বাড়াতে হবে। একজন গ্রাউন্ডসম্যান সারাদিন মাঠে কাজ করে মাস শেষে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতন পান। একজন বিদেশি কোচ যে বেতন পান স্থানীয় ২০ জন কোচও হয়তো তা পান না। আম্পায়ারদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে। ফিজিও, ট্রেনারদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলবো আমরা।’
৮। নতুন টি-টোয়েন্টি লিগ চালু :  এনামুল হক বিজয় বলেছেন, ‘আমরা দুটো চার দিনের টুর্নামেন্ট খেলি-বিসিএল এবং এনসিএল। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের ওয়ানডে ভার্সনে আমরা মাত্র একটি টুর্নামেন্ট খেলি (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ)। তাই আরেকটি টুর্নামেন্ট বাড়ানো উচিত। বিপিএল ছাড়া আর কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয় না। বিপিএলের আগে একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হওয়া জরুরি।’
৯। ফিক্সড ক্যালেন্ডার : নুরুল হাসান সোহান বলেছেন, ‘ঘরোয়া আসরের ক্ষেত্রে আমাদের একটি ফিক্সড ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। যার ফলে আমরা সারা বছরের প্রস্তুতি নিতে পারবো।’
১০। বকেয়া পাওনা : জুনায়েদ সিদ্দিক বলেছেন, ‘বিপিএল-প্রিমিয়ার লিগের টাকা আমরা যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাই। এখনো ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা ৪০ ভাগ টাকা পায়নি। এটা খুব দৃষ্টিকটু।’
১১। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা আটকানো যাবে না : ফরহাদ রেজা বলেছেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের জন্য একটি নিয়ম বেঁধে দেওয়া আছে যে, কেউ দুটির বেশি খেলতে পারবে না। জাতীয় দলে খেলার বাইরে আমরা যদি ফ্রি থাকি তাহলে যেন দেশের বাইরে আরো বেশি খেলতে যেতে পারি।’
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন