ধেয়ে আসছে ‘অতি ভয়ঙ্কর’ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

আপডেট: 01:21:50 09/11/2019



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রতীরবর্তী সুন্দরবনে আঘাত হানতে চলেছে ‘বুলবুল’। আবহাওয়া দপ্তরকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো এই ঝড়কে ‘অতি প্রবল’ বলছে। আর ভারতের গণমাধ্যমে এই ঝড়কে ‘অতি ভয়ঙ্কর’ বলা হচ্ছে।
বিডিনিউজের খবরে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বাংলাদেশ উপকূলের ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ায় মোংলা ও পায়রায় ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত জারি হয়েছে।
পাশাপাশি কক্সবাজারে আগের মতোই ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় এ ঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আয়েশা খাতুন বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে শনিবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে।”
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে আবহওয়া অধিদপ্তর বিপদ সংকেত জারি করার পর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বিকেলে সচিবালয়ে এক প্রস্তুতি সভা শেষে বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন।
উপকূলীয় সাত জেলাকে ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি মাইকিং করে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে।
লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ৫৬ হাজার স্বেচ্ছারসবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দুই হাজার প্যাকেট করে শুকনো খাবার।
কলকাতার আনন্দবাজার বলছে, অতি ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছে অতি ভয়ঙ্কর ঘূ্র্ণিঝড় বুলবুল। আগামী কাল শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার সকালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের  গতিবেগ থাকবে ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। এমনকি তা ১৩০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উত্তরমুখী হয়ে এগোচ্ছে। শনিবার অভিমুখ পরিবর্তন হয়ে উত্তর-পূর্বমুখী হবে। যেভাবে ঘূর্ণিঝড় গতি নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সুন্দরবনে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। সে কারণে উপকূলবর্তী প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় আবহবিজ্ঞান বিভাগের ঘূর্ণিঝড় বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন, “ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় গতিবেগ থাকতে পারে ১২৩ কিলোমিটারের আশপাশে। কোথাও কোথাও তা ১৩০ কিলোমিটারের গতি ছাড়াতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে।”
শুক্রবার সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর-সহ উপকূলবর্তী জেলাতে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এ দিন কলকাতাতেও বিক্ষোপ্তভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। শনি ও রোববার বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর। ভারী বৃষ্টি হবে দুই ২৪ পরগনা ওপূর্ব মেদিনীপুরে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হবে কলকাতা, হাওড়া, নদিয়া, হুগলিসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে।
একই সঙ্গে উত্তাল হয়ে উঠবে সমুদ্র। উত্তর ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস হবে। সে কারণে দিঘা, মন্দারমণি, শঙ্করপুর, তাজপুর, বকখালির সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে পর্যটকদের। ঝড়ের কারণে মাটির বাড়ি, কাঁচা রাস্তা, গাছপালা ভেঙে পড়তে  পারে। তাই উপকূলের জেলার প্রশাসনকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস বলেন, “কলকাতা এবং আশপাশ এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে হাওয়া বইবে শনিবার। ওই দিন মধ্যরাতে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুন্দরবনের ওপর প্রভাব পড়বে। আগামী দু’দিন ভারী বৃষ্টি হবে।”
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখাতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন