নবগঙ্গার মাটি কেটে সাবাড়, পাউবো নীরব

আপডেট: 10:13:32 19/11/2020



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীর পাড়ের মাটি অবৈধভাবে কেটে নিচ্ছে একদল দুর্বৃত্ত। প্রকাশ্যে প্রায় এক মাস ধরে ওই চক্র মাটি কাটার কাজ করলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের অভিযোগ, উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের নূর আলমের নেতৃত্বে এ মাটি কাটার কাজ চলছে। তার অবৈধ কাজে সহায়তা করছে মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে সবুজ, পার-মল্লিকপুর গ্রামের মৃত খালেক শেখের ছেলে ওকি শেখ, মান্নান শেখের ছেলে বিপুল শেখসহ আরো ৮-১০ জন।
অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের 'ম্যানেজ' করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন অনুমোদনহীন ইটভাটায়। এছাড়া নদীপাড়ের মাটি দিয়ে পুকুর ভরাটের কাজও কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দুর্বৃত্ত চক্রটি।
দিনে ও রাতে বিরামহীনভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় নদী ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছেন তীরবর্তী কয়েকশ’ পরিবার। তারা মাটি কাটায় বাঁধা দিলেও তা বন্ধ হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, নদী কাটার কারণে গ্রামবাসীকে আতংকে সরে যেতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে নূর আলম সিন্ডিকেটের সদস্যরা দাবি করেছেন, তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়েই নদী পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছেন। ফলে এ নিয়ে ঝামেলা করলে বিপদ হবে বলে হুমকিও দিয়েছেন চক্রের প্রধান নূর আলম।
প্রায় এক মাস ধরে মাটি কেটে বিক্রি করা হলেও নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন তারা কিছুই জানেন না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের  প্রকৌশলী উজ্জলকুমার সেন বলেন, ‘মাটি বিক্রি করার কোনো নিয়ম নেই, তবে অনুমতিসাপেক্ষে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য মাটি নেওয়া যায়। তিন-চার মাস আগে সেরকম একটি কাজ বন্ধ হয়েছে, এখন তো মাটি দেওয়ার কথা না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এইমাত্র রিপোর্ট পেলাম যে অবৈধভাবে কিছু লোক নদীর পাড় কেটে মাটি নিচ্ছে। আমি ওই এলাকায় গিয়ে তদন্ত করে বিষয়টি দেখবো।’
এদিকে বৃহস্পতিবার নবগঙ্গা নদীর চর-মল্লিকপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি ট্রাকে করে নদী পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাক রেখে পালিয়ে যায় শ্রমিক এবং ট্রাকের চালক।
তবে ভেকু নামে এক ট্রাক চালক বলেন, ‘হাজি নূর আলম আমাদের মাটি কাটা বাবদ কন্ট্রাক করে এনেছে। তার কথাতেই মাটি কেটে ট্রাকে লোড করছি।’
মাটি কাটা সিন্ডিকেটের প্রধান হাজি নূর আলম বলেন, ‘আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাকে অনুমতি দিয়েছে।’

আরও পড়ুন