নারী কল্যাণে আজীবন কাজ করে যেতে চান রেখা

আপডেট: 01:56:38 12/10/2020



img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : নারী ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করে জীবন পার করতে চান নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ঝিকিরা গ্রামের শেখ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. রেখা পারভীন। ইতিমধ্যে অসহায় নির্যাতিত নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃক পেয়েছেন উইমেন এনটারপ্রেনিউরশিপ নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম পুরস্কার। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার। ২০১৬ সালে বাঁচতে শেখা কর্তৃক সেরা ভলেন্টিয়ার মোটিভেটর পুরস্কারও পেয়েছেন। পেয়েছেন ২০১১ সালে মানুষের জন্য সংগ্রামে শপথে মানবাধিকার পুরস্কার।
রেখা পারভীন বলেন, ভদ্রবিলা নারী ও শিশু অধিকার সংস্থা ও সূর্য্যের আলো সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভানেত্রী হিসেবে আমি চাই সমাজে কোনো নারী ও শিশু নির্যাতন থাকবে না। সমাজে সবাই সুষ্ঠুভাবে বসবাস করতে পারবে। আমি অসহায় পাঁচজন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করিয়ে দিয়েছি বাঁচতে শেখার মাধ্যমে। যৌতুকের কারণে পারুল হত্যা, নিলুফা, রত্না সিকদার হত্যার ন্যায্য বিচারের জন্য কাজ করেছি এবং আসামিরা বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পেয়েছে। এ ছাড়া ও অনেক নারী পাচারকারীকে আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করেছি। অসহায় নারীদের উদ্ধার করতে পেরেছি। অনেক নারীদের ন্যায্য দেনমোহরের টাকা শালিসের মাধ্যমে আদায় করিয়ে দিতে পেরেছি। প্রশাসনের সহযোগিতায় অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে ভূমিকা রেখেছি, অবিভাবকদের সচেতন করেছি।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে আমার জীবন হুমকির মধ্যে পড়েছে। ঘরের মধ্যে আমাকে আটকে রাখা হয়েছে। অনেকে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। পা কেটে ফেলতে চেয়েছে। কিন্তু আমি দমিনি।’
‘ঝরেপড়া শিশুদের অভিবাবকদের বুঝিয়ে স্কুলে পাঠিয়েছি। উপবৃত্তির ব্যবস্থা করিয়েছি। প্রকৃত হতদরিদ্র অসহায়দের বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে সহযোগিতা করেছি। স্বাস্থ্যসেবার জন্য অসহায় রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়েছি।’
নিবেদিতপ্রাণ এই নারীর বলছেন, তার জীবনের ওপর হুমকি রয়েছে। হুমকি-ধামকি বন্ধে তিনি প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন। জানিয়েছেন, আজীবন তিনি নারী-শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান।